এ দেশের আধুনিক স্থাপত্যের পথিকৃৎ স্থপতি মাজহারুল ইসলামের কাজেই প্রথম আমরা দেখি এক্সপোজড ব্রিকের (প্লাস্টারবিহীন ইট) ব্যবহার। ১৯৫৩-৫৫ সালে নির্মিত হয় ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের চারুকলা ইনস্টিটিউটের ভবন। তখন সিরামিক ইট পাওয়া না গেলেও পাওয়া যেত মেশিনে তৈরি ইট। সেই ইটেই তৈরি হয় দেশের প্রথম আধুনিক স্থাপত্য। ঔপনিবেশিক ঘরানার বাইরে এসে প্রকাশ পায় আধুনিক স্থাপত্যের সৌন্দর্য। যেখানে অলংকরণ দূরে থাক, ইটের দেয়ালের ওপর প্লাস্টার পর্যন্ত পড়েনি। দেয়ালটা পর্যন্ত যেখানে রং করার প্রয়োজন পড়েনি। রেখে দেওয়া হয়েছে ইটের প্রাকৃতিক রং ও গঠন, যা আমাদের মতো অর্থনীতির দেশের জন্য ছিল টেকসই ও যথার্থ।
অন্দরসজ্জায়ও এক্সপোজড ব্রিক ওয়াল এখন ভীষণ জনপ্রিয়তা পেয়েছে। হাল আমলে দেয়ালের এমন রূপ অনেকেই ভীষণ পছন্দ করছেন। নতুনত্ব ও ভিন্নতা আনতেও অনেকে এই এক্সপোজড ব্রিক ওয়াল বেছে নিচ্ছেন। কম্পোজিশনে ভিন্নতা ছাড়াও ঘরের ভেতর আলাদা একটা আমেজ তৈরি করে এই এক্সপোজড ব্রিক ওয়াল।
কিন্তু, এই এক্সপোজড ব্রিক ওয়ালের কিছু সুবিধা ও অসুবিধাও রয়েছে। সেগুলো জানা থাকলে সিদ্ধান্ত নিতে সুবিধা হবে।
অন্দরসজ্জায় নানাভাবে আসছে এক্সপোজড ব্রিকের দেয়াল। বাড়ির বহির্দেয়াল পুরোটাই এক্সপোজড ব্রিকে করা হলেও অন্দরে সব দেয়ালের বদলে কিছু নির্দিষ্ট দেয়ালে থাকছে এক্সপোজড ব্রিক। এতে নির্দিষ্ট দেয়ালটিই হয়ে উঠছে অন্দরসজ্জার মূল আকর্ষণ। আবার একঘেয়েমি কাটিয়ে রঙিন দেয়ালের সঙ্গে সামঞ্জস্যও বিধান করছে।
অনেকেই এক্সপোজড ব্রিকের বিদ্যমান রং ও গড়নের সঙ্গে ব্যক্তিগত পছন্দ মিলিয়ে উঠতে পারেন না। ভীষণ রাস্টিক লুক অনেকেরই ঠিক পছন্দ না৷ তাই অকৃত্রিম এক্সপোজ দেয়ালের পাশাপাশি আসছে সাদা, কালো বা ছাই রঙের প্লাস্টার করা রঙিন দেয়ালও। অর্থাৎ মনোক্রমের বদলে বৈপরীত্যের ধারণাটিও চলছে বেশ, যা অন্দরের বিভিন্ন স্পেসকে দিতে পারে ভিন্ন মাত্রা।
এক্সপোজড ব্রিক ওয়াল তৈরির সময় ব্যবহৃত ইটের মান পরীক্ষা করে নেওয়াটা খুবই গুরুত্বপূর্ণ। এই ধরনের দেওয়াল নির্মাণের সময় সঠিকভাবে কাজ করা না হলে ফিনিশিং খারাপ হওয়ার আশঙ্কা থেকে যায়। এক্সপোজড ব্রিক ওয়ালে খুব সহজেই ধুলাময়লা আটকে যায়। তাই নিয়মিত দেয়াল পরিষ্কার করতে হবে।






