এআই চিকিৎসক-রোগীর সম্পর্ক উন্নয়নে ভূমিকা রাখতে পারে

চিকিৎসক–রোগীর আন্তসম্পর্কের টানাপোড়েন নিয়ে আলোচনা সব দেশেই আছে। প্রায় সবাই চায় ‘মানুষ’ ডাক্তারকে দেখতে—তিনি মনোযোগ দিয়ে কথা শুনবেন, সহমর্মিতা দেখাবেন, রোগীর ব্যথায় দুঃখ পাবেন, সেই সঙ্গে যত্ন করে রোগ নির্ণয়ও করবেন, চিকিৎসাও দেবেন। যন্ত্রের হাতে এ দায়িত্ব মানুষ দিতে চায় না। মাত্র ১৩ শতাংশ আমেরিকান মনে করেন, এআই চিকিৎসক-রোগীর সম্পর্ক উন্নয়নে কোনো ভূমিকা রাখতে পারে।

এরিক টপোল অবশ্য আশাবাদী। তিনি মনে করেন, এআই চিকিৎসাসেবার সঙ্গে সম্পর্কিত প্রশাসনিক বা অন্য করণিক কাজগুলোকে সম্পাদন করে চিকিৎসকদের সময় ও শ্রম অনেকখানি বাঁচিয়ে দিতে পারে। একদিকে রোগীরা অনেক বেশি স্বাধীন ও সক্ষম হবে—চিকিৎসকের শরণাপন্ন হতে হয়, এমন অনেক কাজ এআই সেগুলো করে দেবে। এ সময় চিকিৎসকেরা দিতে পারবেন জটিল রোগ নির্ণয় ও তার উন্নততর চিকিৎসার ব্যবস্থা করতে।

আমাদের দেশে না হলেও পশ্চিমের দেশগুলোয় চিকিৎসকদের দিনের একটা বিরাট পরিমাণ সময় ব্যয় করতে হয় রোগীর অবস্থা, চিকিৎসা ইত্যাদি তথ্য লিপিবদ্ধ করতে। এখন এআই চেম্বারে কিংবা ওয়ার্ড রাউন্ডের সময় রোগী ও সহকর্মীদের সঙ্গে কথোপকথন থেকে চমৎকার ও পুঙ্খানুপুঙ্খ রোগের সারাংশ তৈরি করে দিচ্ছে। শুধু কি সারাংশ?

এই কথোপকথন থেকে এআই চিকিৎসকদের তৈরি করে দিচ্ছে ব্যবস্থাপত্র, ইনস্যুরেন্স কোম্পানির জন্য প্রাক্‌-অনুমতি, ল্যাব পরীক্ষার নির্দেশ, এমনকি রোগীকে তাঁর রক্তচাপ মাপার কথা মনে করে দেওয়ার কাজটুকুও। চিকিৎসকেরা হাঁপ ছেড়ে বেঁচেছেন, কারণ দীর্ঘ সময় তাঁদের আর কি–বোর্ড ও স্ক্রিনের সামনে বসে থাকতে হবে না। এখন থেকে চিকিৎসাসংক্রান্ত তথ্য সংগ্রহ ও সংরক্ষণ এভাবেই হতে যাচ্ছে।