ঈদের বাজারে বিক্রি করার আশায় খামারিরা যত গরু পালন করেছিলেন, তার একটা উল্লেখযোগ্য অংশই বিক্রি হয়নি

এখন খামারিরা বলছেন, যদি সরকারি বা বেসরকারি কোনো সংস্থা আগেই জেলার কোরবানির চাহিদা নিয়ে একটা জরিপ প্রকাশ করত, তাহলে সেদিকে লক্ষ রেখেই তাঁরা বিশেষ করে দর্শনীয় গরু পালনের ব্যাপারে সিদ্ধান্ত নিতেন।

রাজশাহী জেলা প্রাণিসম্পদ অধিদপ্তর সূত্রে জানা গেছে, এবার কোরবানির বাজারকে কেন্দ্র করে খামারি ও সাধারণ কৃষকেরা জেলায় ৩ লাখ ৮২ হাজার পশু পালন করেছিলেন। কোরবানি হয়েছে প্রায় ৩ লাখ ৯ হাজারটি। এবার অবশ্য ভারতীয়
পশু আমদানি করা হয়নি। স্থানীয়ভাবেই চাহিদার চেয়ে বেশি পশু পালন করা হয়েছে, যা চাহিদার চেয়ে বেশি।

অধিদপ্তরের তথ্য অনুযায়ী, এবার গরু পালন হয়েছে ১ লাখ ৬ হাজার ৬৬৬ টি। তার মধ্যে কোরবানি হয়েছে ৬২ হাজার ৮৫৪ টি। রাজশাহীর দুর্গাপুর উপজেলার আহান অ্যাগ্রো ফার্মের স্বত্বাধিকারী রফিকুল ইসলাম স্থানীয় বাজারে বিক্রি করতে না পেরে ৩০টি গরু ঢাকায় নিয়েছিলেন। সেখানে বিক্রি হয়েছে ১৯ টি, যেগুলোর দাম তিন লাখের নিচে। আর তিন লাখের ওপরে যে ১১টি গরুর দাম, সেগুলো বিক্রি হয়নি। তাই অবিক্রীত গরুগুলো নিয়ে তিনি খামারে ফেরত আসেন। অথচ এ গরুগুলো নিয়েই বেশি আশা ছিল বলে জানান রফিকুল ইসলাম।

রাজশাহী নগরের খড়খড়ি এলাকার ওয়াফি অ্যাগ্রো ফার্মের স্বত্বাধিকারী আনোয়ার হোসেন জানান, তিনি ৫৩টি গরুর মাত্র ১৫টি গরু বিক্রি করতে পেরেছেন। বড় গরুগুলোই বিক্রি করা যায়নি। তাঁর মতে, করোনা পরিস্থিতির কারণেই বড় গরুর ক্রেতা পাওয়া যায়নি।

সওদাগর অ্যাগ্রোর মালিক আরাফাত রুবেল বলেন, যদি কোরবানির পশুর চাহিদার ওপর সরকারি বা বেসরকারি পর্যায়ে একটা জরিপ হতো, আর প্রাণিসম্পদ বিভাগ জেলার খামারে ও গৃহস্থের বাড়িতে কী পরিমাণ পশু রয়েছে, তারা সে সম্পর্কে একটি ঘোষণা দিতে পারত, তাহলে হয়তো কোরবানির বাজার নিয়ে বিড়ম্বনা তৈরি হতো না।
রাজশাহীতে মহিষ কোরবানি দেওয়ার প্রচলন কম। তাই খামারে মহিষ পালনও কম হয়। এবার ঈদের বাজার সামনে রেখে পালন হয় ২ হাজার ৯৫৬টি মহিষ। এর মধ্যে মাত্র ৩১৫টি মহিষ কোরবানি হয়েছে।

তবে ছাগল বিক্রির লক্ষ্যমাত্রা প্রায় অর্জিত হয়েছে। রাজশাহীতে ছাগল প্রস্তুত ছিল প্রায় ২ লাখ ৪৩ হাজার। এর মধ্যে কোরবানি হয়েছে ২ লাখ ২৬ হাজার। ভেড়া পালা হয়েছিল প্রায় ৩৫ হাজার। কোরবানি হয়েছে প্রায় ২০ হাজার ৬৬৩ টি।

রাজশাহী জেলা প্রাণিসম্পদ কর্মকর্তা মো. ইসমাইল হক বলেন, মুক্তবাজার অর্থনীতির যুগে কে কতটা পশু পালন করবে, এটা নির্ধারণ করে দেওয়া যায় না। তাই যে যাঁর মতো করে পশু পালন করেন। তাঁরা সরকারকে ধারণা দিয়েছেন যে স্থানীয়ভাবে পালন করা পশুতেই কোরবানির চাহিদা মেটানো যাবে। কোরবানির জন্য বাইরে থেকে পশু আমদানি করার প্রয়োজন পড়বে না। তাই বাইরে থেকে কোনো পশু আমদানি করা হয়নি। তারপরও অনেক পশু অবিক্রীত থেকে গেছে।