তরুণ উদ্যোক্তাদের এগিয়ে নিতে চায় ইয়াং বাংলা-মাইক্রোসফট

দেশের তরুণ উদ্যোক্তাদের এগিয়ে নিতে কাজ করে যেতে চায় ইয়াং বাংলা ও মাইক্রোসফট। এর অংশ হিসেবে শুরু হয় মাইক্রোসফট-ইয়াং বাংলা ইন্টার্ন সামিট ২০১৮। চার দিনব্যাপী সামিটের শেষ দিনে গতকাল শনিবার দেশের শীর্ষ পাঁচ স্টার্ট আপ প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে পরিচয় করিয়ে দেওয়া হয় সামিটে যোগ দেওয়া ইন্টার্নদের। বিজয়ী প্রতিষ্ঠানগুলোর পাশাপাশি ভালো আইডিয়া দেওয়া প্রতিটি দলকে ইয়াং বাংলার প্ল্যাটফর্ম ব্যবহার করতে দেওয়া হবে।

তরুণদের উদ্ভাবনী ভাবনার বিকাশের সুযোগ করে দিয়ে উদ্যোক্তা তৈরির লক্ষ্যে ৩ অক্টোবর ঢাকার ইঞ্জিনিয়ার্স ইনস্টিটিউশনে শুরু হয় এ সামিট। পুরস্কার বিতরণের আগে জানানো হয়, বিজয়ী দলগুলোর পাশাপাশি সামিটে অংশ নেওয়া সব দলকে নিয়ে কাজ করবে ইয়াং বাংলা। তাদের স্টার্ট আপ আইডিয়াগুলোর সঙ্গে অন্য মন্ত্রণালয়, এনজিও বা প্রতিষ্ঠানকে যুক্ত করার জন্য ইয়াং বাংলা চেষ্টা কর যাবে। তাই ইয়াং বাংলার সঙ্গে নিজেদের আইডিয়াগুলো নিয়ে যুক্ত থাকতে হবে।

সেন্টার ফর রিসার্চ অ্যান্ড ইনফরমেশনের (সিআরআই) ট্রাস্টি রাদওয়ান মুজিব সিদ্দিক বলেন, ‘ইয়াং বাংলার স্লোগান কানেক্টিং দ্য ডটস। তরুণদের লবিস্ট হিসেবে কাজ করে যাচ্ছে ইয়াং বাংলা। বর্তমান প্রজন্মের চিন্তাভাবনা ও আইডিয়ার সঙ্গে দেশের নীতিনির্ধারকদের সেতুবন্ধ তৈরির উদ্দেশ্যে কাজ করে যাবে প্রতিষ্ঠানটি। আমরা যখন তরুণ ছিলাম, তখন মাইক্রোসফট ছিল আমাদের কাছে বর্তমান সময়ের ফেসবুক-টুইটারের মতোই জনপ্রিয়। ইয়াং বাংলার পাশে মাইক্রোসফটের নাম দেখে ভালো লাগছে। ইয়াং বাংলার মাধ্যমে দেশের প্রান্তিক পর্যায়ের মানুষের সঙ্গে মাইক্রোসফটের মতো একটি ব্রান্ডকে যুক্ত করতে পেরেছি আমরা।’

এ সময় রাদওয়ান মুজিব সিদ্দিক আরও বলেন, ‘আমরা কাউকে পেছনে ফেলে যেতে চাই না। আমাদের প্রধানমন্ত্রী সব সময় বলেন, “সবাইকে নিয়ে উন্নয়ন চাই, কাউকে পেছনে ফেলে যেতে চাই না।” আমার ভালো লাগছে, প্রধানমন্ত্রীর চিন্তার সঙ্গে বর্তমান প্রজন্মের চিন্তা মিলে যাচ্ছে। তারা সকলে হাতে হাত ধরে দেশকে এগিয়ে নিয়ে যেতে কাজ করছে। আশা করছি তরুণেরা এভাবেই ইয়াং বাংলার সঙ্গে থাকবে।’

মাইক্রোসফটের কান্ট্রি ডিরেক্টর সোনিয়া বশির কবির বলেন, ‘আমাদের ৫০টি বিশ্ববিদ্যালয়ে থাকা ১০০ ক্যাম্পাস অ্যাম্বাসেডর এখন মাইক্রোসফট ব্রান্ড অ্যাম্বাসেডর হয়ে যাচ্ছেন।’ দেশের ৭ জেলায় ইয়াং বাংলার সহায়তায় প্রতিষ্ঠিত মাইক্রোসফটের ল্যাবগুলোর প্রশংসা করে তিনি বলেন, ‘এই ল্যাবগুলোতে কাজ করে অনেকে স্বাবলম্বী হয়ে উঠছেন দেখে ভালো লাগছে। ল্যাবগুলো দুর্দান্ত কাজ করছে।’

তরুণদের বৃহত্তম প্ল্যাটফর্ম ইয়াং বাংলার উদ্যোগে ও মাইক্রোসফটের সহায়তায় আয়োজিত ‘স্টার্ট আপ’ ইন্টার্ন সামিটে অংশ নিতে আবেদন করেন ১ হাজারের বেশি উদ্যোক্তা। সারা দেশের বিভিন্ন বিশ্ববিদ্যালয় থেকে রেজিস্ট্রেশন করে ৩২৪টি গ্রুপ। এর থেকে বাছাই করা ২৫০টি গ্রুপ সামিটে অংশগ্রহণের সুযোগ পায়। সামিটে অংশ নেওয়া দলগুলোর মধ্য থেকে শীর্ষ ১০ দলকে বাছাই করা হয় ৫ অক্টোবর। এরপর তাদের সঙ্গে মার্চ মাসে সিলেক্ট করা শীর্ষ ১০ দল একত্রে তাদের আইডিয়া পিচ করে। এই ২ দলের মধ্য থেকে শীর্ষ ৫ দলকে প্রদান করা হয় অ্যাওয়ার্ড। বিজয়ী দলগুলো হলো: গরুর ডাক্তার, ফিন্যান্স উইজার্ড, ব্লেজ ওয়ারিয়ার্স, বিএসএল ও মাইক্রো বিটস।

LEAVE A REPLY