এক মুহূর্তের জন্য কল্পনা করুন—আপনি কম্পিউটারের সামনে বসে আছেন; কিন্তু কিবোর্ডে হাত দিচ্ছেন না, মাউসও ব্যবহার করছেন না। শুধু মনে মনে একটি বাক্য ভাবলেন। আর সেটি পর্দায় লেখা হয়ে গেল। কিংবা হুইলচেয়ারে বসে থাকা একজন ব্যক্তি শুধু চিন্তার মাধ্যমে হুইলচেয়ার চালাচ্ছেন। রোবোটিক হাত দিয়ে একটি গ্লাস তুলে পানি পান করছেন। কয়েক বছর আগেও এসব বিষয় ছিল বিজ্ঞান কল্পকাহিনির অংশ। কিন্তু আজ তা বাস্তব গবেষণাগারে পরীক্ষিত প্রযুক্তি। ব্রেইন-কম্পিউটার ইন্টারফেস (Brain-Computer Interface বা BCI) এমন একটি প্রযুক্তি, যা মানুষের মস্তিষ্ক ও কম্পিউটারের মধ্যে সরাসরি যোগাযোগ স্থাপন করতে পারে। প্রযুক্তি বিশেষজ্ঞদের মতে, আগামী দশকে এটি হতে পারে কম্পিউটিং জগতের সবচেয়ে বড় বিপ্লবগুলোর একটি।
মানুষের মস্তিষ্ক প্রতিনিয়ত অসংখ্য বৈদ্যুতিক সংকেত তৈরি করে। আমরা যখন কোনো কিছু ভাবি, দেখি বা কোনো অঙ্গ নাড়ানোর সিদ্ধান্ত নিই, তখন মস্তিষ্কের নিউরনগুলো একে অপরের সঙ্গে বৈদ্যুতিক সংকেত আদান-প্রদান করে। বিসিআই প্রযুক্তির মূল কাজ হলো এই সংকেতগুলো শনাক্ত করা, বিশ্লেষণ করা এবং কম্পিউটার বুঝতে পারে এমন ডিজিটাল নির্দেশনায় রূপান্তর করা। অর্থাৎ, কিবোর্ডে টাইপ করার পরিবর্তে মস্তিষ্কের সংকেতই হয়ে উঠতে পারে ভবিষ্যতের ইনপুট ডিভাইস।






