বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইনসের একের পর এক পাইলট ও কেবিন ক্রু করোনায় আক্রান্ত

বাংলাদেশ এয়ারলাইনস পাইলট অ্যাসোসিয়েশন (বাপা) সূত্র জানায়, বিমানবহরে উড়োজাহাজ আছে ২১টি। এর বিপরীতে পাইলট প্রয়োজন ২০১ জন। কিন্তু পাইলট আছেন ১৫৮ জন। এঁদের মধ্যে গত মাসেই আক্রান্ত হন ৫৬ জন। ফলে পাইলট–সংকট হয় ব্যাপকভাবে।

চাকরির চুক্তি অনুযায়ী, একজন পাইলটের মাসে নির্ধারিত কর্মঘণ্টা হচ্ছে অভ্যন্তরীণ ফ্লাইটে ৬০ ঘণ্টা এবং আন্তর্জাতিক ফ্লাইটে ৭৫ ঘণ্টা। নাম প্রকাশ না করার শর্তে বিমানের একজন পাইলট প্রথম আলোকে বলেন, বর্তমান পরিস্থিতিতে অনেককে ৫ থেকে ১০ ঘণ্টা অতিরিক্ত উড্ডয়ন করতে হচ্ছে। তারপরও ফ্লাইটসূচি ঠিক রাখা কঠিন হয়ে পড়েছে।

উদাহরণ দিতে গিয়ে এই পাইলট বলেন, গত ২৯ জানুয়ারি সন্ধ্যা সাড়ে সাতটায় সৌদি আরবের দাম্মামে বিমানের একটি ফ্লাইট যাওয়ার কথা ছিল। কিন্তু পাইলট–সংকটের কারণে ফ্লাইটটি সময়মতো ছাড়তে পারেনি। পরে অন্য ফ্লাইটের পাইলট এনে দাম্মামের ফ্লাইটটি পাঠানো হয় রাত ১১টার দিকে।

৬ ফেব্রুয়ারি বেলা ১১টায় বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইনসের একটি ফ্লাইট নেপাল থেকে দেশে আসার কথা। কিন্তু পাইলট না পাওয়ায় সেটি বাতিল করতে হয়। পরে সেই ফ্লাইটের যাত্রীরা অন্য একটি এয়ারলাইনসের ফ্লাইটে দেশে আসেন। বাতিল হওয়া ওই ফ্লাইটের যাত্রী আরিফুর রহমান প্রথম আলোকে বলেন, ‘আমাদের জানানো হয়, করোনায় আক্রান্ত হওয়ায় পাইলট–সংকট হয়েছে। এ কারণে ফ্লাইট বাতিল হয়। পরে হিমালয় এয়ারলাইনসের টিকিট কেটে দেশে আসি।’