বড় ভাই হঠাৎ-ই মারা যান হার্ট অ্যাটাকে। এ ঘটনা বড় ধাক্কা হয়ে আসে মডেল ও অভিনয়শিল্পী পল্লবের জীবনে। ভাইয়ের মৃত্যুর দুই বছর পর চোখের সামনে বাবার মৃত্যুতে যেন একেবারে ভেঙে পড়লেন। পল্লব এখন মাকে নিয়ে থাকেন ঢাকার আদাবরের বাড়িতে। করোনার এই সময়টায় মাকে নিয়েই একমাত্র চিন্তা তাঁর।
একটা সময় ক্যামেরার সামনে ৫, ৪, ৩, ২, ১, ০ শুনে সময় কাটত। আর এখন সাভারের ব্যাংক টাউন এলাকায় নিজের ফ্যাক্টরিতেই ব্যস্ত থাকেন। যুক্তরাষ্ট্রভিত্তিক একটি প্রতিষ্ঠানের পরিবেশক হিসেবে কাজ করছেন। এ ছাড়া অনাথ দুস্থ কল্যাণ সংস্থা নামে একটি এনজিও পরিচালনা করছেন বলেও জানালেন। এসব করেই দিব্যি কেটে যায় তাঁর দিন।
করোনার মধ্যে সবকিছু লকডাউন থাকলেও কিছু সময়ের জন্য ফ্যাক্টরি চালু রাখতে হচ্ছে। সুরক্ষাবিধি মেনেই কাজ করছেন কর্মচারীরা। কাজে গেলেও মনটা পড়ে থাকে ৮০ পেরোনো মায়ের কাছে। তাই যত দ্রুত সম্ভব কাজ সেরে বাড়িতে চলে আসেন। মায়ের যাবতীয় দেখাশোনা তিনি নিজেই করছেন। একসময় শোবিজে কাজ করতে গিয়ে পরিবারের কারোরই খোঁজখবর রাখতে পারেননি। সে সময়টাকে ‘ইমম্যাচিরউড’ সময় হিসেবে মনে করছেন তিনি। পল্লব জানালেন, এখন বেশ পরিণত হয়েছেন। পল্লব বলেন, ‘নিজেকে নিয়ে আর ভাবি না। মা-ই আমার সব চিন্তার কেন্দ্রবিন্দু। এদিকে বিয়েশাদি না করায় মা–ও আমায় নিয়ে অনেক চিন্তা করেন। একবারই প্রেম করেছিলাম, সেই সম্পর্কে ভেঙে যাওয়ায় আর বিয়ে করিনি।’
‘কী মিষ্টি মিষ্টি অপলক দৃষ্টি, অপরূপ সুন্দর লাগছে/ এই মনের গভীরে, যার ছবি আঁকা আছে, তুমি সেই সুন্দর চোখে ভাসছে’—নব্বই দশকে প্রচারিত জনপ্রিয় এই বিজ্ঞাপনচিত্রের জিঙ্গেলের সঙ্গে কমবেশি সবাই পরিচিত। এই বিজ্ঞাপনচিত্রের সেই সুদর্শন মডেলই পল্লব, আর সঙ্গে ছিলেন রিয়া। এমন আরও অনেক বিজ্ঞাপনচিত্রে সে সময় পল্লবের ছিল উজ্জ্বল উপস্থিতি। পল্লবের শুরুটা হয়েছিল আফজাল হোসেনের পরিচালনায় গার্লিক অয়েল পণ্যের বিজ্ঞাপনচিত্রে অভিনয় করে। ১৯৯১ সালে এই বিজ্ঞানচিত্রের শুটিংয়ে যখন তিনি অংশ নেন, তখন তিনি বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তির অপেক্ষায়।
একে একে শতাধিক বিজ্ঞাপনচিত্রে কাজ করেন পল্লব। তাঁর বিপরীতে মডেল হয়েছেন অপি করিম, তারিন, রিয়া, সুইটি, মৌ, তানিয়াসহ অসংখ্য বড় তারকা। ছোটবেলা থেকে খেলাধুলায় আসক্ত পল্লব হুট করেই বিজ্ঞাপনচিত্রে কাজ শুরু করেন।





