টানা ২১ দিন ধরে মিয়ানমার থেকে কোনো পণ্যবোঝাই কার্গো ট্রলার বা জাহাজ আসছে না। সর্বশেষ ৪ জুন কাঠভর্তি একটি কার্গো ট্রলার এসেছিল কক্সবাজারের টেকনাফ স্থলবন্দরে। আর এ বছরের মার্চ মাসের মাঝামাঝি সময় থেকে বাংলাদেশ থেকে কোনো রপ্তানি পণ্য মিয়ানমারে যাচ্ছে না। এতে বাংলাদেশের ব্যবসায়ীরা দুশ্চিন্তায় পড়েছেন।
মিয়ানমারের রাখাইন রাজ্যে দেশটির জান্তা বাহিনীর সঙ্গে স্বাধীনতাকামী সশস্ত্র গোষ্ঠী আরাকান আর্মির (এএ) লড়াই-সংঘর্ষের ভয়াবহতা বেড়ে যাওয়ার কারণে বাংলাদেশের সঙ্গে আমদানি-রপ্তানি বন্ধ হয়ে গেছে। চলতি বছরের ফেব্রুয়ারিতে তাদের মধ্যে সংঘর্ষ শুরু হয়।
সাধারণত মিয়ানমারের মংডু ও আকিয়াব বন্দর এবং বাংলাদেশের টেকনাফ স্থলবন্দর দিয়ে বাণিজ্যিক কার্যক্রম চলে। টেকনাফ থেকে দেশটির রাজধানী ইয়াঙ্গুনের দূরত্ব প্রায় এক হাজার কিলোমিটার হওয়ায় সেখান থেকে পণ্য আমদানিতে ব্যয় বেড়ে যায়। আবার সময়ও লাগে বেশি। অন্যদিকে মংডুর অবস্থান টেকনাফের ঠিক উল্টো দিকে নাফ নদীর ওপারে, দূরত্ব মাত্র পাঁচ কিলোমিটার।
টেকনাফ স্থলবন্দরের ব্যবসায়ীরা জানান, কয়েক মাস আগেও মিয়ানমারের মংডু ও আকিয়াব থেকে প্রতিদিন ১০ থেকে ১২টি ট্রলারে করে নারকেল, পেঁয়াজ, আদা, আচার, কাঠ, শুকনা সুপারি, শুঁটকি, হিমায়িত মাছসহ বিভিন্ন পণ্য টেকনাফ স্থলবন্দরে আসত। সর্বশেষ ৪ জুন কাঠ নিয়ে একটি ট্রলার আসে। এ ছাড়া ২ জুন একটি ট্রলারে হিমায়িত মাছ ও ২২ মে একটি ট্রলারে করে নারকেল, আদা, আচার, সুপারি ও শুঁটকি আমদানি হয়।
টেকনাফ স্থলবন্দরের শ্রমিকনেতা আজগর আলী ও শামসুদ্দিন জানান, স্বাভাবিক সময়ে বাংলাদেশে থেকে দিনে ২-১টি ট্রলারে করে কাপড়, আলু, কোমল পানীয় ও প্লাস্টিকজাতীয় পণ্য মিয়ানমারে রপ্তানি হতো।






