বেন স্টোকসের অনির্দিষ্টকালের জন্য ক্রিকেট থেকে সরে যাওয়া

মানসিক অবসাদ কিংবা মানসিক ক্লান্তি—কথাগুলো ক্রীড়াজগতে এখন বেশ পরিচিত। টোকিও অলিম্পিকে এই অসুখে ভুগে ইভেন্ট থেকে সরে দাঁড়ান জিমন্যাস্ট সিমোন বাইলস। ইংল্যান্ড ক্রিকেট দলেও এই অসুখ নতুন কিছু নয়। মার্কাস ট্রেসকোথিক, জোনাথন ট্রটরা নানা সময়ে এ সমস্যায় ভুগেছেন। বেন স্টোকসের অনির্দিষ্টকালের জন্য ক্রিকেট থেকে সরে যাওয়ার সরাসরি কোনো কারণ দেখানো হয়নি।

হাতে চোটের সঙ্গে ইসিবির দেওয়া ব্যাখ্যায় যতটুকু বোঝা গেছে, মানসিক অবসাদ থেকে মুক্তির লক্ষ্যেই এই সিদ্ধান্ত ইংলিশ অলরাউন্ডারের। সামনে ভারতের বিপক্ষে টেস্ট সিরিজ থাকলেও স্টোকসের সরে যাওয়ার সিদ্ধান্তকে ইতিবাচক চোখে দেখছেন ইংল্যান্ডের সাবেক অধিনায়ক ও ধারাভাষ্যকার নাসের হুসেইন। তাঁর ভাষায়, ‘সুপারহিরোরও তো ক্লান্তি পায়।’

স্টোকস এক অর্থে ইংলিশ ক্রিকেটের ‘সুপারহিরো’ই। গত ওয়ানডে বিশ্বকাপ ফাইনাল কিংবা সে বছরই হেডিংলিতে অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে টেস্টে তাঁর অবিস্মরণীয় ১৩৫* রানের ম্যাচ জেতানো ইনিংস—এসব ইনিংস অন্তত সাধারণ কারও পক্ষে খেলা সম্ভব নয়। কয়েক বছর ধরেই ইংলিশ ক্রিকেটের জন্য নিজেকে নিংড়ে দিচ্ছেন স্টোকস। এমনকি কিছুদিন আগে যখন মূল ওয়ানডে দল করোনার জন্য পাকিস্তান সিরিজ থেকে ছিটকে গিয়েছিল, সে সময় হাতের চোট উপেক্ষা করেও অনভিজ্ঞ এক দলকে নেতৃত্ব দেওয়ার জন্য ফিরেছিলেন তিনি।

ব্রিটিশ সংবাদমাধ্যম ‘ডেইলি মেইল’–এ স্টোকসের সরে দাঁড়ানোর সিদ্ধান্ত নিয়ে কলাম লিখেছেন নাসের হুসেইন। সেখানে তাঁর ব্যাখ্যা, ‘মহামারি শুরুর পর থেকেই আমাদের তারকা ক্রিকেটারদের জীবনযাপন খুব কঠিন হয়ে গেছে। আর তাই বেন স্টোকসের মতো কারও নিজের দেখাশোনার প্রয়োজনীয়তা অনুভব করা একদম সঠিক সিদ্ধান্ত।’ ক্রিকেটের প্রতি স্টোকসের নিবেদনের প্রশংসা করে নাসের হুসেইন আরও লিখেছেন, ‘সে সব সংস্করণ খেলছে, এমনকি আইপিএলও। যেকোনো চ্যালেঞ্জ এলেই ঝাঁপ দেয়। টেস্ট ম্যাচে প্রতিপক্ষকে চাপে রাখতে ১৫ ওভারের একটা স্পেল দরকার? বেন আছে। অ্যাশেজে হার এড়াতে অবিশ্বাস্য সেঞ্চুরি দরকার? বেনকে ডাকুন। বিশ্বকাপ ফাইনালের সুপার ওভারে ওপেনার লাগবে? সেখানেও বেন!’