আয়াক্স রূপকথার ‘খলনায়ক’ টটেনহামের লুকাস মুরা

নিজেদের মাঠে এগিয়ে থেকে দ্বিতীয় লেগ খেলতে নেমেছিল আয়াক্স। শুরুটাও হয়েছে দুর্দান্ত। প্রথমার্ধে ২-০ গোলের ব্যবধানে এগিয়ে থেকেও আয়াক্স ম্যাচটি হাতছাড়া করে শেষ পর্যন্ত। হ্যাটট্রিক করে আয়াক্স রূপকথার গল্পের ‘খলনায়ক’ বনে গেলেন লুকাস মুরা। ম্যাচে ঘুরে দাঁড়িয়ে আয়াক্সের জয় ছিনিয়ে টটেনহামকে ফাইনালে তোলেন লুকাস মুরা। লুকাস মুরা এখন টটেনহাম সমর্থকদের ‘সুপার হিরো’। চ্যাম্পিয়নস লিগের ফাইনালে মুখোমুখি হবে দুই ইংলিশ ক্লাব।

টটেনহামের ‘সুপারহিরো’ লুকাস মুরা। ছবি: এএফপিটটেনহামের ‘সুপারহিরো’ লুকাস মুরা। ছবি: এএফপিচ্যাম্পিয়নস লিগে বার্সেলোনা-লিভারপুল ম্যাচের ঘোর কাটার আগে আরও একটি ফুটবল জাদুর রাতে বুঁদ হয়ে রইল ফুটবলপ্রেমীরা। যারা ফুটবল ভালোবাসেন না, এমন খেলা দেখার পর বলতেই হয় তাঁরা সত্যি অভাগা! রীতিমতো পয়সা উশুল ম্যাচ। আক্রমণ, আক্রমণ আর আক্রমণে ঠাসা এক ম্যাচ। যে ম্যাচে সহজেই আরেকটি রূপকথার গল্প লিখে ফেলতে পারত আয়াক্স। কিন্তু আয়াক্স পারেনি। আয়াক্স হেরেছে টটেনহামের লুকাস মুরা নামক এক সুপার হিরোর কাছে। এক এক করে তিনটি গোলই এসেছে টটেনহামের ব্রাজিলিয়ান এই ফরোয়ার্ডের কাছ থেকে।

আয়াক্স প্রথম লেগে এক গোলে এগিয়ে থেকে দ্বিতীয় লেগের খেলা শুরু করে নিজেদের মাঠে। প্রথমার্ধেই ২-০ গোলের ব্যবধানে এগিয়েও যায় ডাচরা। শেষ পর্যন্ত হলো কী? সেই আয়াক্স কিনা ৩-২ গোলের ব্যবধানে হেরে গেল!আয়াক্সের হাকিম জিয়েখ ছিলেন দুর্দান্ত। ছবি: এএফপিআয়াক্সের হাকিম জিয়েখ ছিলেন দুর্দান্ত। ছবি: এএফপিতবে আয়াক্স পুরো ম্যাচে টটেনহামের চোখে চোখ রেখে খেলেছে। শেষ পর্যন্ত লড়ে গেছে। শুধু ফলাফলটা গেছে টটেনহামের পক্ষে। প্রথমার্ধে টেন হাগের শিষ্যদের দৌড়ে সে কি গতি, কি ক্ষিপ্রতা! টটেনহাম যতবারই আক্রমণে উঠেছে বাজপাখির মতো ছোঁ মেরে বল কেড়ে নিয়েছে আয়াক্সের খেলোয়াড়েরা। পাল্টা আক্রমণে যখন ছোট ছোট পাসে আগানো দরকার তখন তাই করেছে আয়াক্স। আবার যখনই লম্বা করে সতীর্থকে বল বাড়িয়ে দ্রুত আক্রমণে ওঠা দরকার তখন সে কাজটি করেছে অত্যন্ত নিখুঁতভাবে। আয়াক্সের লক্ষ্য ছিল পরিষ্কার—জিততে হবে। শুরুর মিনিট দশেক টটেনহামের রক্ষণকে আয়াক্সের আক্রমণের কাছে বেশ অসহায়ই মনে হয়েছে। বরং স্বাগতিকদের রক্ষণ ইংলিশদের কাছে যেন দুর্বোধ্য ছিল।জয়ের দুই নায়ক, ডেলে আলি ও লুকাস মুরা। ছবি: এএফপিজয়ের দুই নায়ক, ডেলে আলি ও লুকাস মুরা। ছবি: এএফপিম্যাচের একেবারে শুরুতে, পঞ্চম মিনিটেই অতিথিদের বুকে ছুরি চালিয়ে বসে আয়াক্স। ইংলিশদের দুর্বল রক্ষণের সুযোগ নিয়েই দুর্দান্ত এক গোলে দলকে এগিয়ে নেন ডি লিট। এর আগের মিনিটেই টিডিচের শট কর্নারের বিনিময়ে ঠেকান টটেনহাম গোলরক্ষক লরিস। তবে শেষ পর্যন্ত ঠেকিয়ে রাখতে পারেননি। ওই কর্নার থেকে নেওয়া শটেই মাথা ছুঁইয়ে বল জালে জড়ান ডি লিট।

৩৫তম মিনিটে হাকিম জিয়েখের গোল ব্যবধান বাড়ায় স্বাগতিকেরা। ফন ডি বেকের সঙ্গে বল দেওয়া-নেওয়া করে দুর্দান্ত এক শটে বল জালে জড়ান জিয়েখ। পুরো ম্যাচেই জিয়েখ ছিলেন চোখে পড়ার মতো। ৭৯ মিনিটে ওই ডি বেকের কাছ থেকে বল পেয়েই জোরালো শট নিয়েছিলেন জিয়েখ। গোলপোস্ট বাধা হয়ে না দাঁড়ালে ফলাফল অন্য কিছুও হতে পারত।গোলের পর মুরার উদ্‌যাপন। ছবি: এএফপিগোলের পর মুরার উদ্‌যাপন। ছবি: এএফপিএর আগে প্রথমার্ধে গোলের ভালো সুযোগ হাতছাড়া করে টটেনহাম। ২৩ মিনিটে সন হিউংয়ের শট আটকে দেন আয়াক্স গোলরক্ষক ওনানা। পরের মিনিটে ফের টটেনহামের আরেকটি সুযোগ নষ্ট করেন ওনানা। এবার এরিকসেনের শট সহজেই গ্লাভসে জমা করেন আয়াক্স গোলরক্ষক।

অতিথিরা নড়চড়ে বসে দ্বিতীয়ার্ধে এসে। আয়াক্সকে চেপে ধরে দ্বিতীয়ার্ধের শুরু থেকেই। টটেনহামের একের পর এক আক্রমণ আটকাতে আয়াক্সের ব্যস্ত রক্ষণ তখন খানিকটা বেসামাল। কেমন যেন অগোছালো। সুযোগ কাজে লাগায় ইংলিশরা। ৫৫ মিনিটে এসে পাল্টা আক্রমণে ওঠা টটেনহাম গোলের খরা কাটায়। ডেলে আলির বাড়ানো বল জালে জড়ান লুকাস মুরা। গোল দিয়েই যেন নিজেদের ফিরে পায় টটেনহাম। দ্বিতীয় গোলের দেখা পেতেও তাই বেশি সময় লাগেনি। ৫৯ মিনিটে লুকাস মুরার গোলেই ম্যাচে সমতায় ফের পচেত্তিনোর শিষ্যরা। দুই লেগ মিলিয়ে তখনো এগিয়ে আয়াক্স।আয়াক্সকে দুর্দান্ত শুরু এনে দেওয়া ডি লিট। ছবি: এএফপিআয়াক্সকে দুর্দান্ত শুরু এনে দেওয়া ডি লিট। ছবি: এএফপিম্যাচের শেষ মুহূর্তে উত্তেজনার রেনু ছড়িয়ে পড়ে মাঠে। একের পর এক আক্রমণ আর পাল্টা আক্রমণে খেলায় যেন নতুন রঙ লাগে। গোলের সুযোগ পায় দুই দলই। কিন্তু বলে ঠিকঠাক ঠিকানা লিখে দিতে ব্যর্থ সবাই! ততক্ষণে অতিরিক্ত সময়ের কাঁটা ঘোরা শুরু করেছে। সেটাও প্রায় শেষের দিকে, বাকি কয়েক সেকেন্ড মাত্র। তখনই আবির্ভাব সেই লুকাস মুরার। ডেলে আলির বাড়ানো বলেই নিজের হ্যাটট্রিক পূরণ করেন।

টটেনহামের আর্জেন্টাইন কোচ পচেত্তিনো তাঁর শিষ্যদের সঙ্গে। ছবি: এএফপিটটেনহামের আর্জেন্টাইন কোচ পচেত্তিনো তাঁর শিষ্যদের সঙ্গে। ছবি: এএফপিহতাশায় মাটিতে লুটিয়ে পড়ে আয়াক্সের খেলোয়াড়েরা। আর আনন্দে মাঠের সবুজ ঘাসে মুখ লুকাতে চাইলেন টটেনহামের কোচ পচেত্তিনো। মাত্রই যে তাঁর প্রিয় শিষ্যরা ইতিহাস লিখে ফেলেছে। প্রথমবারের মতো চ্যাম্পিয়নস লিগের ফাইনাল খেলবে তাঁর ক্লাব টটেনহাম হটস্পার। আর এ নিয়ে দ্বিতীয়বারের মতো চ্যাম্পিয়নস লিগের ফাইনালে দুই ইংলিশ দল মুখোমুখি। জুনের ১ তারিখে মাদ্রিদে শিরোপার জন্য টটেনহামকে লড়তে হবে লিভারপুলের বিপক্ষে।

LEAVE A REPLY