দুই দিনের ধর্মঘট শেষ না হতেই চার দিন টানা ধর্মঘটের হুমকি রপ্তানি খাতের উদ্যোক্তাদের শঙ্কায় ফেলে দিয়েছে। সড়ক পরিবহন আইন সংশোধনে পরিবহনশ্রমিকদের দাবি মানা না হলে ২১ দিন পর এই ধর্মঘটের হুমকি দেওয়া হয়। এমনিতেই বন্দরের অভ্যন্তরে চলাচলরত রপ্তানি পণ্যবাহী গাড়ি ‘প্রাইম মুভার ট্রেইলার’ গত দুই দিনের পরিবহন ধর্মঘটে যুক্ত হওয়ায় পুরো বন্দরের কার্যক্রম ছিল অচল। এর প্রভাব সরাসরি পড়েছে রপ্তানি খাতে।
গত রবি ও সোমবার দুই দিনের ধর্মঘটে বন্দরের কার্যক্রম যেভাবে অচল হয়ে পড়েছে, তা এ সরকারের দুই মেয়াদে কখনো হয়নি। বন্দর ও জাহাজ কোম্পানির তথ্য অনুযায়ী দুই দিনের ধর্মঘটের কারণে ৭টি জাহাজে ৪ হাজার ৪৪টি কনটেইনার সময়মতো রপ্তানি হয়নি। আবার কারখানা থেকে ডিপোতে আনা যায়নি অন্তত ৩ হাজার ৬০০ কনটেইনারের রপ্তানি পণ্য। আবার দুই দিন কাজ না হওয়ায় বহির্নোঙরে অপেক্ষমাণ জাহাজের সংখ্যা ৫টি বেড়ে হয়েছে ১৬। এর অর্থ রপ্তানিমুখী পোশাক প্রস্তুতের কাঁচামাল পেতে পাঁচ থেকে আট দিন বাড়তি অপেক্ষা করতে হবে।
বন্দর দিয়ে রপ্তানি হওয়া কনটেইনারের ৮০ শতাংশই তৈরি পোশাক খাতের। যেসব পণ্য সময়মতো রপ্তানি হয়নি, তারও বড় অংশই পোশাক খাতের পণ্য, যেগুলো ইউরোপ-আমেরিকায় রপ্তানি হওয়ার কথা ছিল। ধর্মঘটে আটকে থাকা জাহাজগুলো গতকাল বুধবার থেকে রপ্তানি পণ্য নিয়ে বন্দর ছেড়ে যায়। ধর্মঘটের কারণে এক থেকে তিন দিন বাড়তি সময় আটকে ছিল এসব জাহাজ। ধর্মঘটে যে প্রভাব পড়েছে, তা এক সপ্তাহে রপ্তানি হওয়া সব পণ্যের ওপর পড়বে বলে জানান রপ্তানিকারকেরা।
এ বিষয়ে বিজিএমইএ সভাপতি সিদ্দিকুর রহমান প্রথম আলোকে বলেন, ‘এমনিতেই বাংলাদেশ থেকে পণ্য রপ্তানিতে লিড টাইম (পণ্য রপ্তানির সময়সীমা) বেশি। এর ফলে দ্রুত পরিবর্তনশীল নকশার পোশাকের আদেশ পাচ্ছি না আমরা। আবার যেসব পোশাকের আদেশ পাওয়া যাচ্ছে, তার মূল্যও কম থাকে। লিড টাইম কমাতে বন্দরের দক্ষতা বাড়ানোর কথা যখন বলা হচ্ছে, তখন এই ধরনের ধর্মঘটে পণ্য রপ্তানিই পুরোপুরি বাধাগ্রস্ত হচ্ছে।’






