বিকেএসপিতে জিম্বাবুয়ের বিপক্ষে প্রস্তুতি ম্যাচে দুর্দান্ত সেঞ্চুরির পর সৌম্য সরকারের উদযাপনটা কম আকর্ষণীয় ছিল না! সেঞ্চুরির পর শূন্য দিলেন এক লাফ। বোঝাতে চাইলেন তিনি আবারও উড়তে চান ডানা মেলে! সেদিন ম্যাচের পর পরিচিত সাংবাদিকদের কাছে খুঁজতে থাকলেন, উদযাপনের ছবি আছে কি না।
সৌম্য উদযাপনের ছবি দিয়ে শুভেচ্ছা জানালেন বিজয়া দশমীর। কি, আজ উদযাপনের ছবি লাগবে না? আজও তো সেই লাফ, সেই উড়তে চাওয়া; যে ছবি তিনি বড় করে বাঁধাই করে রাখতে পারেন মিরপুরে কেনা নতুন ফ্ল্যাটের বসার ঘরে। সৌম্য মৃদু হাসেন, ‘ওই দিন তো সবাইকে আমার দেখানোর দরকার ছিল। ওই সব ম্যাচ মানুষ দেখে না। কিন্তু আজকের ম্যাচ সবাই দেখেছে।’ সবাই যখন দেখেছে সৌম্যর মেইলে কিংবা ফেসবুকের ইনবক্সে নিশ্চিত চলে যাবে বাঁধভাঙা উদযাপনের ছবি। না গেলেও সমস্যা নেই। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের দেয়ালে কচুরিপানার মতো ভেসে আসবে সৌম্যর বীরত্বগাথার সব ছবি।
হতে পারে প্রতিপক্ষ জিম্বাবুয়ে, তবে সৌম্যর কাছে এই সেঞ্চুরি নিজেকে ফিরে পাওয়ার, স্বস্তিতে শ্বাস নেওয়ার সুযোগ, ক্যারিয়ারটা নতুন করে সাজানোর বড় এক উপলক্ষ। অথচ সৌম্য এই সেঞ্চুরির চেয়ে এগিয়ে রাখছেন ২০১৫ সালের এপ্রিলে করা পাকিস্তানের বিপক্ষে সিরিজের শেষ ওয়ানডেতে করা অপরাজিত ১২৭ রানের ইনিংসটা। কেন রাখছেন সংবাদ সম্মেলনে সেটির ব্যাখ্যা দিলেন এভাবে, ‘পাকিস্তানের বিপক্ষে সেঞ্চুরিটা এগিয়ে রাখব। ওটা আমার ক্যারিয়ারে প্রথম সেঞ্চুরি ছিল। সেঞ্চুরি তো সব সময়ই স্পেশাল। এটাও ভালো ছিল। যে একটা ম্যাচ খেলার সুযোগ পেয়েছি, এখানেও হারানোর অনেক কিছু ছিল। যদি খারাপ খেলতাম, নেতিবাচক অনেক কথা আসত। কেন একটা ম্যাচের জন্য এল, কেন খারাপ করল, অনেক কথাই হতো। শুরুতে এসব একটু মাথায় ছিল। দেখলাম যে কথাই হোক, নিজের খেলাটা খেলতে হবে।’
আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে আবির্ভাবেই আলো ছড়ানো সৌম্য মাঝে নিজেকে হারিয়ে ফেললেন। হারিয়ে নিজেকে পেতে অনেকটা সময় লেগে গেল তাঁর। সৌম্যর নিজেকে ফিরে পাওয়ার গল্পটা শুরু আসলে গত আগস্টে বাংলাদেশ ‘এ’ দলের হয়ে আয়ারল্যান্ড সফরে। ‘এ’ দলকে সামনে থেকেই নেতৃত্ব দিয়েছেন তিনি। হয়েছেন সিরিজসেরা। সেই ধারাবাহিকতা ধরে রেখেছেন জাতীয় লিগ, জিম্বাবুয়ের বিপক্ষে প্রস্তুতি ম্যাচ এবং সবশেষ বাংলাদেশ দলেও।
নিজেকে ফিরে পেতে আয়ারল্যান্ড সফরটা কতটা কাজে দিয়েছে সেটি আজ আরেকবার বললেন সৌম্য, ‘আয়ারল্যান্ড সফরটা ভালো ছিল। ওখানে আমার দায়িত্বটা ভিন্ন ছিল, আমি অধিনায়ক ছিলাম, সঙ্গে বোলিংও করেছি। ওই জায়গায় আমার মাথা একটু খুলেছিল। ভেবেছিলাম যে সিদ্ধান্ত নিব সেটাই হবে, আমার কথায় দল চলবে। তখন সিদ্ধান্ত নেওয়ার দায়িত্বভার এসেছিল। ”এ” দলের খেলা কিন্তু একটা সময় এসেছিল যখন আমার মনে হয়েছে, উইকেটে যতক্ষণ থাকব দলের জন্যও ভালো, আমার জন্যও। সেখানে একটা ওয়ানডে ম্যাচ খেলার সুযোগ ছিল, যেটা আমি খেলতে পারিনি। আমার আফসোস ছিল ওই ম্যাচটা না খেলতে পারায়।’
আফসোসটা সৌম্যর এখন আর থাকার কথা নয়।






