৬ বলে ৮ হলো না কেন ?

১৩ বলে দরকার ছিল ১৪, শেষ ওভারে ৮। এই ম্যাচ হারাই তো অসম্ভব! সেই অসম্ভবটা ‘আরেকবার’ সম্ভব করে ফেলেছে বাংলাদেশ! তীরে এসে তরি ডুবিয়ে ফেলার নজির তো আর কম নেই। কিন্তু বারবার কেন এমন হয়? তাহলে কি সবাই ভুল থেকে শিক্ষা নেয়, বাংলাদেশ কেবল নেয় না! নাকি ওই পরিস্থিতিতে মনের বাঘের সঙ্গে লড়াইয়ে হেরে যাওয়াই নিয়তি!

লম্বা সময় ধরে বাংলাদেশের ক্রিকেটের সঙ্গী, বিসিবির মহিলা উইংয়ের ম্যানেজার নাজমুল আবেদীনের কাছে কাল সংবাদমাধ্যমের প্রশ্ন ছিল এটাই। মিরপুর শেরেবাংলা স্টেডিয়ামের মিডিয়া লাউঞ্জে বসে তিনি বলেছেন, ‘কোনো সন্দেহ নেই, ব্যাপারটা পুরোপুরি মনস্তাত্ত্বিক। আমরা একই ঘটনার পুনরাবৃত্তি দেখলাম এবারও। শুরু থেকে প্রায় শেষ পর্যন্ত খেলার প্রায় পুরোটা আমাদের নিয়ন্ত্রণেই ছিল। খেলা যখন শেষের দিকে এল, তখনো সেট ব্যাটসম্যানরা ছিল এবং তাদের ব্যাটে বলেও ভালো হচ্ছিল। এ ধরনের পরিস্থিতিতে ‘যদি না পারি তাহলে কী হবে’-ভয়টাই ব্যর্থতার একমাত্র কারণ বলে আমার মনে হয়।’

নাজমুল আবেদীনের সঙ্গে একমত কোচ সরওয়ার ইমরানও। তবে বিষয়টাকে শুধু মানসিক হিসেবে দেখতে রাজি নন তিনি, ‘এটা তো জেতা ম্যাচ, যেকোনো দল হলেই জিতত। কিন্তু আমরা পারিনি। এটাকে শুধু দুর্ভাগ্য বললে হবে না। ওই মুহূর্তে নেতিবাচক চিন্তা করলে ম্যাচ জেতা যায় না। তবে আমাদের ক্ষেত্রে যেটা হয়েছে বলে মনে হয়-উইকেটে থিতু হয়ে যাওয়া ব্যাটসম্যানরা ওই মুহূর্তে আউট হয়ে গেছে, সে কারণেই কাজটা কঠিন হয়ে যায়।’

ইঙ্গিতটা মুশফিক-মাহমুদউল্লাহর মতো সিনিয়র খেলোয়াড়দের দিকেই। অবশ্য কাল শেষ ওভারে উইকেটে ছিলেন ঘরোয়া ক্রিকেটের পরীক্ষিত ফিনিশার মোসাদ্দেক হোসেন। কিন্তু তিনিও পারেননি। ব্যর্থ ব্যাটিং অর্ডারে অবনমন হওয়া সাব্বির রহমানও। সিনিয়রদের সঙ্গে কেন বাকিরা একই তেজে জ্বলে উঠতে পারছেন না?

সরওয়ার ইমরান তাঁদের এই ব্যর্থতাকে দেখতে চান আরও বড় দৃষ্টিকোণ থেকে। সমস্যার মূল খুঁজে পাচ্ছেন তিনি ঘরোয়া ক্রিকেটেই, ‘আমাদের ঘরোয়া ক্রিকেটের মান দেখুন। খেলোয়াড়েরা কঠিন পরিস্থিতির মোকাবিলা করা শিখবে কীভাবে? গতবার বিপিএলে খেলল পাঁচ বিদেশি। তার একটা প্রভাব আছে না? এখন তো আমাদের নিজেদের খেলোয়াড়েরা দায়িত্বই নিতে চায় না। একজন করে বিদেশি কম করে খেলালে, দায়িত্বের জায়গাটা আরেকটু বাড়ত ওদের। তুলনামূলকভাবে ঢাকা লিগটা একটু বেশি প্রতিদ্বন্দ্বিতাপূর্ণ। তাঁর ফল, আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে আমরা ওয়ানডেতেই কিছুটা ভালো খেলছি। কিন্তু এটা যথেষ্ট নয়। এই সংস্করণকে আরও বেশি প্রতিদ্বন্দ্বিতাপূর্ণ করে তুলতে হবে। ভালো মাঠে খেলাতে হবে, আম্পায়ারিংয়ের মান আরও বাড়াতে হবে।’

তরুণ ক্রিকেটারদের ব্যর্থতার কারণ খুঁজতে গিয়ে নাজমুল আবেদীন আঙুল তুলেছেন তাঁদের দৃষ্টিভঙ্গির দিকেও, ‘আমরা ওদের সব সময় জুনিয়র হিসেবেই দেখেছি, জুনিয়র হিসেবেই বিবেচনা করেছি। ওরা যখন খেলা শুরু করেছে, তখন থেকে ওদের কাছ থেকে ও রকমই আশা করে আসছি। আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে জুনিয়র-সিনিয়র বলে কিছু নেই। আপনি ভালো বলেই আপনি ওই পর্যায়েই খেলবেন। এ ক্ষেত্রে দায় কিছুটা আমাদেরও। আমরা ওদের নেতা হিসেবে তৈরি করিনি। ওরা অন্যদের ছায়ায় বড় হচ্ছে, অন্যদের ছায়ায় খেলছে।’

তরুণ খেলোয়াড়দের ভেতর দায়িত্ববোধ তৈরি করাটা জরুরি মনে করেন তিনি। কিন্তু বারবার যে তীরে এসে তরি ডুবছে, তার সমাধান কী? এই রাহু কাটাতে অনুশীলনে বিশেষায়িত সেশন যোগ করার পরামর্শ নাজমুল আবেদীনের।

LEAVE A REPLY