দ্রব্য মূল্যের দাম বেড়েই চলেছে

খুচরা বিক্রেতা শওকত খানের কাছে তাই জানতে চেয়েছিলাম পাইকারি বাজার থেকে প্রতি কেজি শসা কত টাকায় কিনেছেন তিনি। প্রথমে বললেন, ৮০ থেকে ৯০ টাকা। পরক্ষণেই বললেন ৬০ থেকে ৭০ টাকা। শওকত খানের স্বীকারোক্তি যদি সত্য হয়, তাহলে ১০০ হাতের ব্যবধানে পাইকারি ও খুচরা বাজারের মধ্যে প্রতি কেজি শসার দামের পার্থক্য দাঁড়ায় সর্বনিম্ন ৩০ থেকে সর্বোচ্চ ৬০ টাকা। অথচ গত মঙ্গলবারও কারওয়ান বাজারে প্রতি কেজি শসা বিক্রি হয়েছে ৪০ টাকায়।

কারওয়ান বাজারের মুদিদোকানের গলির মুখে সবজি নিয়ে বসেন রত্না। মূলত নিম্ন আয়ের মানুষেরাই রত্নাদের মতো বিক্রেতার কাছ থেকে পণ্য কেনেন। বাজারের একটু পুরোনো বা কিছুটা নষ্ট হওয়া সবজি কুড়িয়ে এনে বা কম দামে কিনে সেগুলো ভাগা দিয়ে বিক্রি করেন রত্নার মতো আরও অনেকে। রত্নার পণ্যের ঝুড়িতেও ছিল শসা। যতটুকু দেখা গেল, সেসব শসার কোনোটির অর্ধেকটা, আর কোনোটির কিঞ্চিৎ অংশ পচা। সেগুলোরও কেজি নাকি ৮০ টাকা। রত্নার কাছে জানতে চাইলাম, এ শসা কারা কেনে? কেন কিনবে? রত্নার সাফ জবাব, ‘কিনবে না মানে, বাজারে এর চেয়ে কম দামে আছে নাকি?’

রত্না, শওকতেরা শসার দামে ছাড় দিতে নারাজ। কারণ, তাঁরা জানেন, ইফতারে পাতে শসার কদর বেশি। তাই দামের কারণে চাহিদায় ঘাটতি পড়বে না। কিছু সময় দাঁড়িয়ে থেকে চাহিদার সেই দৃশ্যটির দেখাও মিলল। দাম নিয়ে ক্রেতাদের অভিযোগ থাকলেও বাজারভর্তি ব্যাগে শসার জায়গা উপরিভাগেই।