ক্রিকেটারদের হাঁটুর ব্যথা সম্পর্কে জানতে চাওয়া হয় জাভেদ ওমর বেলিমের কাছে। তিনি বলেন, ‘খেলোয়াড়দের সহজে হাঁটু ব্যথা করে না। সারা দিন খেলার পর টিস্যু ড্যামেজ হয়, তখন আইসিং দিলে সেরে যায়। এর ভেতর মিনিকাস বা লিগামেন্টের ইনজুরি হলে ব্যথা হয়, অপারেশনের দরকার হয়। আর সাধারণ মানুষের ব্যথা হয় বয়স হলে হাড় ও লিগামেন্ট দুর্বল হলে বা অতিরিক্ত ওজন হলে। তাঁরা ব্যথা কমানোর জন্য সবার আগে ওজন নিয়ন্ত্রণ এবং ভালো টেকনিকের ফ্রি স্কোয়াট বা লাঞ্জেস করতে পারেন। সম্ভব হলে ফ্রি হ্যান্ড ওয়েট ট্রেনিং করলে ব্যথা কমে যাবে।’হাঁটুর ব্যথা হলে আনিকা রাব্বানী হলুদ খাওয়ার পরামর্শ দেন। আর ব্যথা জায়গায় ক্যাস্টর অয়েল মেখে গরম পানিতে কাপড় ভিজিয়ে সেঁক দেওয়ার কথা বলেন। এ ছাড়া তিনি বলেন, ‘আমাদের যে কোয়ারডিসেপ মাসল আছে, সেটি শক্ত থাকলে ব্যথা হয় না। এর জন্য খুব সামান্য কিছু ব্যায়াম, যেমন চেয়ারে বসে একসঙ্গে পা ওঠানো–নামানো করা যেতে পারে। এ ছাড়া লোয়ার ব্যাকস্ট্রোক বা ওয়েট ট্রেইন করলে হাঁটুর ব্যথা কম হয়।’
হাঁটুর ব্যথা কেন হয়, এ নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা করেন ডা. মো. নাহিদুজ্জামান সাজ্জাদ। তিনি বলেন, ‘হাঁটুতে বেশি চাপ পড়লে এর আশপাশের লিগামেন্টে বিভিন্ন ফর্মে ইনজুরি হতে পারে। এ জন্য ব্যথা হয়। এ ছাড়া ট্রমাটিক কারণেও ব্যথা হয়ে থাকে। আমি যেহেতু বাত বিশেষজ্ঞ, আমার কাছে বাতের রোগীরা হাঁটুব্যথা নিয়ে আসেন। বয়স্কদের অস্টিওআরথ্রাইটিস হলে ব্যথা হয়। ছোটদের রিউমাটয়েড জ্বরের জন্য ব্যথা হতে পারে।’ বাতের হাঁটুব্যথা আর সাধারণ হাঁটুব্যথার পার্থক্য আছে। বাতের হাঁটুব্যথায় ইনফ্ল্যামেশনের কিছু চিহ্ন ফুটে ওঠে। যেমন, হাঁটু লাল হয়ে যায়, ব্যথায় ফুলে যায়, যখন বিশ্রাম করা হয় তখন ব্যথা বেশি হয়। আবার আঘাতজনিত ব্যথা বিশ্রাম নিলে কমে যায়।
ব্যথার চিকিৎসায় ওষুধ খুব গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে। ব্যথা কমানোর জন্য প্রথমে প্যারাসিটামল–জাতীয় ওষুধ দেওয়া হয়। এতেও যদি ব্যথা না কমে, তখন ইটোরিক্স এবং নাবোমেট স্বল্প মেয়াদে প্রেসক্রাইব করা হয় বলে জানান ডা. মো. নাহিদুজ্জামান সাজ্জাদ। ব্যথা সেরে গেলে আবার ওষুধ বন্ধ করে দেওয়া হয়।
ব্যথা কমানোর জন্য ব্যায়াম বেশ বড় ভূমিকা রাখে। ইয়োগা, তাইচি, অ্যারোবিক, অ্যাকুয়াটিক ইত্যাদি শরীরের মাসল, জয়েন্ট, লিগামেন্ট সুস্থ রাখতে বিশেষভাবে সহায়ক। এ ছাড়া হাড়ের যত্নে সুষম খাবার বেশ গুরুত্বপূর্ণ। ডা. মো. নাহিদুজ্জামান সাজ্জাদ জানান যে একজন মানুষের শরীরে দৈনিক ১০০০ মিলিগ্রাম ক্যালসিয়ামের প্রয়োজন, কিন্তু আমাদের ডায়েটের জন্য পর্যাপ্ত পরিমাণ ক্যালসিয়াম আমরা পাই না। কর্মব্যস্ত জীবনে রোদের নিচে গিয়ে ভিটামিন ডি গ্রহণের সময়টুকু আমাদের থাকে না। এ জন্য দুধ, ছোট মাছ, ফলমূল, শাকসবজি খেতে হবে। ভাত কম পরিমাণে খেতে হবে।






