ইউরোপীয় পার্লামেন্ট ব্রেক্সিট পরবর্তী বাণিজ্য চুক্তির জন্য রোববারের সময়সীমা নির্ধারণ করেছে। তারিখটি সর্বশেষতম সুযোগ হিসেবে ধরে নেয়া হয়েছে। ২১ ডিসেম্বর রোববার মধ্যরাতের মধ্যে এটি হওয়া প্রয়োজন, যাতে পার্লামেন্ট মেম্বাররা সামগ্রীক পর্যালোচনা শেষে সম্মতি ভোট প্রদানে সক্ষম হন।
ইইউর প্রধান আলোচক মিশেল বার্নিয়ার এমইপিদের আশাবাদ ব্যক্ত করে বলেছেন, শুক্রবারের মধ্যে ব্রেক্সিট পরবর্তী বাণিজ্য ও সুরক্ষা চুক্তি করা কঠিন হলেও সম্ভব। ইউরোপীয় পার্লামেন্ট মেম্বারগণ (এমইপি) এই তারিখ পর্যন্ত সময়ে বাণিজ্য চুক্তি সম্ভব হলে এ বছর তাদের অভিমত ব্যক্ত করার সুযোগ পাবেন বলে জানিয়েছেন।
পার্লামেন্টে রাজনৈতিক দলসমূহের নেতাদের সাথে ব্রিফিংয়ের সময় ইইউর প্রধান আলোচক অবশ্য একটি নির্দিষ্ট সময়সীমা নির্ধারণের বিরুদ্ধে সতর্ক করে বলেন, এতে চূড়ান্ত লক্ষ্য অর্জনে ব্যত্যয় ঘটতে পারে। ইউরোপীয় পিপলস পার্টির প্রধান ম্যানফ্রেড ওয়েবার বলেছেন, শুক্রবারে কাট-অফ পয়েন্ট হওয়া উচিত। বার্নিয়ার তখন বলেছেন, তিনি এই বার্তাটি যুক্তরাজ্যের আলোচকদের কাছে প্রকাশ করতে পারেন। তবে তিনি পার্লামেন্টকে পরামর্শ দিয়েছেন, বৃটেনের মাছ ধরার পানি সীমায় ইউরোপীয় ইউনিয়নের অ্যাক্সেস নিয়ে আলোচনা উইকএন্ডের শেষ সময় পর্যন্ত পিছিয়ে দেয়া বুদ্ধিমানের কাজ হবে।
ইউরোপীয় পার্লামেন্টে আলোচনার পরিপ্রেক্ষিতে এক বিবৃতিতে পার্লামেন্টের নেতারা তাদের সমর্থন দিয়ে বলেছেন, রোববার ২১ ডিসেম্বর মধ্যরাতের মধ্যে যদি চুক্তি হয়, তবে তারা ২৮ ডিসেম্বর ভোট গ্রহণ করবেন। এতে অবশ্য গ্রীনদল মত প্রকাশে বিরত ছিল।
ব্রেক্সিট আলোচনার পুরো সময়সীমা পেরিয়ে গেছে।
ফলে শেষ মূহুর্তের এই পদক্ষেপে বোঝা যাচ্ছে যে, বৃটিশ ফিশিং এরিয়ায় অ্যাক্সেস নিয়ে কিছু অর্জন বেশ কঠিন। তা সত্ত্বেও সপ্তাহান্তে একটি চুক্তি ক্রমবর্ধমান হয়ে উঠছে। ইউরোপীয় ইউনিয়নের সদস্য দেশগুলি সংসদীয় সম্মতি না নিয়েও ৩১ ডিসেম্বরের আগে অস্থায়ীভাবে একটি চুক্তিতে যেতে পারে। যাতে এমইপিগণ তাদের কমিটিতে এবং পূর্ণাঙ্গ অধিবেশনে বিতর্ক শেষে জানুয়ারিতে ভোট দেবেন।
তবে ইউরোপীয় কমিশন সংসদে বক্তব্য না রেখে এগিয়ে যাওয়ার বিরোধিতা করছে। তারা এই বছরের বাকি তিন সপ্তাহে কিছু করার পক্ষে অভিমত ব্যক্ত করেছেন। বার্নিয়ার এমইপিদের বলেছেন, সমস্ত পক্ষই মনে হয় কথিত অস্থায়ী চুক্তির বিরোধী। পরিপূর্ণ চুক্তির জন্য যেখানে কয়েক সপ্তাহের প্রয়োজন, সেখানে মাত্র ৭২ ঘন্টার মধ্যে চুক্তির সমাপ্তি সহজ নাও হতে পারে।
বার্নিয়ার নেতাদের বলেছেন, মৎস্য আহরণ এখন সবচেয়ে কঠিন সমস্যা। যুক্তরাজ্যের প্রধান আলোচক ডেভিড ফ্রস্টের সাথে তিনি জোর দিয়েছিলেন যে, ভবিষ্যতের মানদণ্ড ইস্যু করার জন্য যুক্তরাজ্য যে পদক্ষেপ নিয়েছে, তাতে সমতা আনতে হবে। বার্নিয়ার আরো বলেন, বর্তমান ট্রানজিশন পিরিয়ড শেষে যুক্তরাজ্যের তার জল সীমা বন্ধ করার একতরফা ক্ষমতা থাকবে। যুক্তরাজ্যের উপকূল রেখার ৬ থেকে ১২ নটিক্যাল মাইল অঞ্চলে ইউরোপীয় ইউনিয়নের অ্যাক্সেস নিয়ে বিতর্ক রয়েছে। ডাউনিং স্ট্রিট জোর দিয়ে বলেছেন যে, এটি বৃটিশ জাহাজের একচেটিয়া ব্যবহারের জন্য হওয়া উচিত।
এদিকে বৃটিশ প্রধানমন্ত্রী বরিস জনসন সময়সীমা শেষ হলে মন্ত্রিপরিষদকে কোন চুক্তি ছাড়াই ব্রেক্সিটের জন্য প্রস্তুত থাকতে বলেছেন। তবে ইউরোপীয় ইউনিয়নের সাথে আলোচনায় ‘অতিরিক্ত মাইল’ যেতেও তার আগ্রহের কথা জানিয়েছে। গত রোববার ব্রেক্সিট চুক্তি নিয়ে আলোচনার পর ইউরোপিয় ইউনিয়নের প্রেসিডেন্ট উরসূলা ভন ডার লেন ও বৃটেনের প্রধানমন্ত্রী বরিস জনসন গুরুত্বপূর্ণ ইস্যুগুলোর সমাধান না হওয়ায় চুক্তিতে পৌঁছাতে আরো কিছু সময় নিয়েছেন। দুই নেতাই একমত হয়েছিলেন যে, এই আলোচনা আরো সময় নিয়ে শেষ করা উচিত।
১০ ডাউনিং স্ট্রিটের এক মুখপাত্রের মতে, প্রধানমন্ত্রী বলেছেন “সময় খুব কম” এবং আলোচনাটি “গুরুতর পরিস্থিতিতে” রয়েছে। মন্ত্রী মাইকেল গোভ বলেছেন, তিনি আশা করছেন একটি চুক্তি “যত তাড়াতাড়ি সম্ভব” হয়ে যাবে। তিনি আরো বলেন, ইউরোপীয় সংসদ যখন বলেছে রোববারের মধ্যে চুক্তি সমাপ্ত না হয় তবে তারা চুক্তির অস্থায়ী ব্যবস্থা প্রয়োগ করতে পারে।
এদিকে ব্রেক্সিট পরবর্তী বাণিজ্য চুক্তি না হলে বৃটেন তার পূর্বপ্রস্তুতির আগাম পরিকল্পনা তৈরী করেছে। সমুদ্রসীমায় অনুপ্রবেশ ঠেকাতে রাজকীয় নৌ-বহর মোতায়েনের নির্দেশ দেয়া হয়েছে। সীমান্তে ১ হাজার ১০০ জন বাড়তি কাস্টম ও ইমিগ্রেশন অফিসার মোতায়েন করা হবে বলে জানা গেছে।






