ওয়ান্ডারার্সের অতীত বেশ সমৃদ্ধ হলেও বর্তমান ধূসর আর লজ্জার

ঢাকার ফুটবলে বড় এক আক্ষেপের নাম ওয়ান্ডারার্স। এই ক্লাবে খেলেছেন অনেক নামীদামি ফুটবলার। নবী চৌধুরী, আমির জং গজনবী, ফজলুর রহমান আরজু, কবির আহমদ, আশরাফ চৌধুরী, চিহ্লা মং চৌধুরী মারী, মনজুর হাসান মিন্টু, জাকারিয়া পিন্টু, মেজর হাফিজ, ওয়াজেদ গাজী, সুলতান আহমেদ-এমন কত চেনামুখ! ১৯৫০-১৯৫৪ সাল পর্যন্ত টানা পাঁচবার ঢাকার ফুটবল লিগে চ্যাম্পিয়ন ঢাকা ওয়ান্ডারার্স। ১৯৫৫ সালের পরিত্যক্ত লিগ শেষে ১৯৫৬ সালে আবারও চ্যাম্পিয়ন। ঢাকার ফুটবলে টানা ৬টি লিগ জেতার রেকর্ডের মালিক একমাত্র আজকের পতিত ওয়ান্ডারার্সই।

পঞ্চাশ-ষাটের দশকে আবাহনী-মোহামেডান লড়াই ছিল না। তখন ফুটবল মাঠে শত্রুতা মানে ওয়ান্ডারার্স-মোহামেডান। ১৯৬০ সালে সর্বশেষ ঢাকা লিগ ঘরে তোলে ওয়ান্ডারার্স। কিন্তু সময়ের সঙ্গে সঙ্গে নিচে নামতে থাকে দলটি। নব্বই দশকে চলে যায় দ্বিতীয় বিভাগে। সেই ওয়ান্ডারার্সকে ঢাকার ফুটবলে খুঁজে পেতে আজ অনেকেরই গলদঘর্ম অবস্থা হয়। অনেকে জানেনও না ক্লাবটি কোন স্তরে আছে। অথচ জুয়া-ক্যাসিনোর আগ্রাসনে পথহারা ক্লাবগুলোর সারিতে ওয়ান্ডারার্সকে খুঁজে পাওয়া যায় সহজেই।

১৯৩৭ সালে প্রতিষ্ঠিত ওয়ান্ডারার্সের অতীত বেশ সমৃদ্ধ হলেও বর্তমান ধূসর আর লজ্জার। নব্বই দশক থেকে দখল এবং নানা ধরনের বাণিজ্য শুরু হয় ওয়ান্ডারার্সে। ১১ বছর আগে একটি পক্ষ ক্লাব অডিটোরিয়াম ভাড়া নেয়। জুয়া বাবদ প্রতিদিন তারা ক্লাবকে ৩০ হাজার টাকা করে দিত। অনুসন্ধানে জানা গেছে, সেই ভাড়া ২ বছরের মধ্যেই দৈনিক ৫০ হাজারে ওঠে। যথাযথ অনুমতি নিয়েই নাকি ক্লাবে এই ‘ইনডোর খেলা’ চলত বলে জানান এক কর্মকর্তা।