শতকোটিপতি ২০২২ সালে তাঁদের বিলিয়নেয়ারের মুকুট হারিয়েছেন

শতকোটিপতি বা পুরো বিশ্ব যাদের বিলিয়নেয়ার হিসেবে চেনে, তাদের অনেকের জন্যই গত বছরটি খুব ভালো যায়নি। বিলিয়নেয়ারের যে তালিকা প্রতিবছর হুরুন গ্লোবাল রিচ লিস্ট তৈরি করে, তাতে দেখা যাচ্ছে, চার শরও বেশি শতকোটিপতি ২০২২ সালে তাঁদের বিলিয়নেয়ারের মুকুট হারিয়েছেন।

বার্তা সংস্থা রয়টার্সের খবরে বলা হয়েছে, গত বছর শতকোটিপতির সংখ্যা সবচেয়ে বেশি কমেছে চীনে। দেশটিতে ২২৯ জন তাঁদের বিলিয়নেয়ারের তকমা খুইয়েছেন।
শতকোটিপতির সংখ্যা কমে যাওয়ার পেছনে মোটাদাগে তিনটি কারণকে চিহ্নিত করা হয়েছে। এগুলো হলো আর্থিক ব্যবস্থা আঁটসাঁট করা, কোভিড–১৯–এর কারণে তৈরি হওয়া অর্থনৈতিক গোলযোগ এবং বড় বড় প্রযুক্তি কোম্পানির ওপর বেইজিংয়ের কঠোর পদক্ষেপ, যা শেষ পর্যন্ত অতি ধনীদের জন্য সমস্যা হয়ে দাঁড়ায়।

দুনিয়াজুড়ে ২০২২ সালে যে ৪৪৫ জন বিলিয়নেয়ার কমেছে, তার অর্ধেকের বেশি চীনের। হুরুনের শতকোটিপতিদের তালিকায় তাঁরাই স্থান পান, যাঁদের কমপক্ষে ১ বিলিয়ন বা ১০০ কোটি মার্কিন ডলারের সম্পদ রয়েছে।

গত বছরে চীনের অনেক শতকোটিপতি যেমন সম্পদ হারিয়ে তালিকা থেকে বেরিয়ে গেছেন, তেমনই অনেক নতুন বিলিয়নেয়ার আবার এই তালিকায় নতুনভাবে যুক্ত হয়েছেন। বিশ্বের দ্বিতীয় বৃহত্তম অর্থনীতির দেশে এমন নতুন বিলিয়নেয়ারের সংখ্যা ৬৯ জন।

হুরুন প্রতিবেদনের প্রতিষ্ঠাতা ও চেয়ারম্যান রুপার্ট হুগেওয়েরফ বলেন, ‘পৃথিবীজুড়েই বিলিয়নেয়ারের সংখ্যা ৮ শতাংশ কমে গেছে। অন্যদিকে তাদের মোট সম্পদ কমেছে ১০ শতাংশ।’ তিনি জানান, তালিকায় ৩ হাজার ১১২ জন শতকোটিপতি ছিলেন। এক বছর আগে এই সংখ্যা ছিল ৩ হাজার ৩৮১।

অতি ধনীদের সংখ্যা অবশ্য চীনেই সবচেয়ে বেশি। ২০২৩ সালের ১৬ জানুয়ারি দেশটিতে ৯৬৯ জন বিলিয়নেয়ার ছিলেন। ওই দিন মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রে বিলিয়নেয়ারের সংখ্যা ছিল ৬৯১ জন।

বিলাসপণ্য তৈরি করে এমন কোম্পানির মালিকদের জন্য বছরটি বেশ ভালো গেছে। এমনই এক ফরাসি প্রতিষ্ঠান এলভিএমএইচের প্রধান বার্নার্ড আরনল্ট ধনীদের তালিকার শীর্ষে রয়েছেন। ফরাসি আরেক বিলাসপণ্য প্রস্তুতকারক হার্মের মালিক বার্ট্রান্ড পুয়েশ ও তাঁর পরিবার তৃতীয় স্থানে আছেন।

তালিকা থেকে বাদ পড়েছেন এমন পরিচিত নামের মধ্যে রয়েছেন স্যাম ব্যাঙ্কম্যান–ফ্রিড। ক্রিপ্টোকারেন্সি একচেঞ্জ এফটিএক্স ধসে পড়ার কারণে তিনি ২ হাজার ১০০ কোটি ডলার সম্পদ হারান।