করোনাভাইরাসের আক্রমণে দিশেহারা গোটা বিশ্ব। মহামারিতে আক্রান্ত বেশিরভাগ দেশই আপাতত বাঁচার একমাত্র পথ দেখছে ঘরে বসে থাকা আর সামাজিক দূরত্বকে। ভাইরাসটির প্রতিষেধক এখনো পরীক্ষা–নিরীক্ষার পর্যায়ে থাকায় গৃহবন্দিত্বকে বাঁচার রাস্তা হিসেবে দেখছে সবাই। ‘লকডাউন’ কিংবা ‘শাটডাউন’ যা–ই বলা হোক না কেন, করোনাভাইরাসের সঙ্গে লড়াইয়ে অস্ত্র এখন এটিই। ইউরোপ–আমেরিকা তো বটেই উপমহাদেশেও চলছে এই লকডাউন। ভারত, বাংলাদেশ, পাকিস্তান—প্রতিটি দেশই লকডাউন দিয়েই করোনাভাইরাসের বিরুদ্ধে লড়ছে। এরই মধ্যে পাকিস্তানের সাবেক ফাস্ট বোলার শোয়েব আখতারের কান্ডে উঠেছে সমালোচনার ঝড়।
এক মাস আগেই করোনাভাইরাস নিয়ে খুব সোচ্চার ছিলেন শোয়েব। নিজের এক ভিডিও বার্তায় প্রথমে চীনাদের খাদ্যাভ্যাসকে এর মূল কারণ বলেছিলেন। এরপর পাকিস্তানে এটি হানা দিলে তিনি সোচ্চার ছিলেন মানুষের সচেতনতার ব্যাপারে। নিজের ইউটিউবে এ নিয়ে পোস্ট করেছেন একাধিক ভিডিও। পাকিস্তানের সাধারণ মানুষ কেন বাড়ির বাইরে বের হচ্ছেন, কেন তাঁরা খাবার খেতে রেস্তোরাঁয় ভিড় করছেন—শোয়েবের ক্ষোভের কারণ ছিল এগুলোই। পাকিস্তানের জনগণের সচেতনতা নিয়ে দারুণ ক্ষুব্ধ ছিলেন তিনি।
কিন্তু শনিবার শোয়েব নিজেই এমন এক কান্ড করেছেন, যেটি সমালোচনা তৈরি করেছে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে। নিজের চ্যানেল পোস্ট করা এক ভিডিওতে লকডাউনের এই সময় ইসলামাবাদ শহরের সৌন্দর্য বর্ণনা করেছেন। ফাঁকা রাস্তায় সাইকেল চালিয়ে পাকিস্তানি ক্রিকেট তারকা নিজেই বর্ণনা করেছেন রাজধানীর সৌন্দর্য। এ সময় শোয়েবের মুখে কোনো মাস্ক দেখা যায়নি। হাতে ছিল না দস্তানাও।
ব্যাপারটি মেনে নিতে পারছেন না তাঁর ভক্তরা। ঝড় উঠেছে নেট দুনিয়ায়। একজন তো বলেই দিয়েছেন, ‘ভাই সচেতনতা নিয়ে এত বড় বড় বুলি আওড়ালেন, এখন নিজেই!’
অনেকেই বলছেন, এসব করে করোনার এই সময় শোয়েব একটা বাজে উদাহরণ সৃষ্টি করেছেন।
এখন শোয়েব এ ব্যাপারে কী বলেন, দেখার বিষয় এটিই।






