যদি বোলিং অলরাউন্ডার হওয়া যায় !!

কাল হারারে টেস্টের প্রথম দিন শেষ বিকেলে ব্যাটিংয়ে নেমেও তাসকিন ঠিক সেভাবে ব্যাটিং করলেন, যেভাবে সেদিন নেটে ব্যাটিং করছিলেন। এক বল দেখে পরের বলেই ব্যাট চালালেন সপাটে। ডোনাল্ড তিরিপানোর করা বলটি পয়েন্টের ফাঁকা জায়গা দিয়ে গড়িয়ে যায় বাউন্ডারি সীমানায়। সেই এলোপাতাড়ি ব্যাটিং চলেছে আজও, যা থামানোর উপায়ই খুঁজে পাচ্ছিল না ব্রেন্ডন টেলরের দল।

দিনের শুরুতে যেকোনো টেস্ট দলের বোলাররা ভালো জায়গায় বল করে ব্যাটসম্যানদের রান থামিয়ে রাখতে চান। কিন্তু তাসকিন তো আর নিখাদ ব্যাটসম্যান নন। বল দেখেশুনে ছেড়ে খেলার মানসিকতা তাঁর নেই। আছে উল্টো টেলএন্ডার ব্যাটসম্যানদের পাগলামি। সকাল সকাল তিনি জিম্বাবুয়ের সেরা পেসার ব্লেসিং মুজারাবানিকে কাভার দিয়ে ড্রাইভ করে চার মেরেছেন। তার ওপর যেসব বল করে কাল সকালে মুজারাবানি সাইফ-নাজমুলদের আউট করেছেন, সেসব বল তাসকিন ছেড়ে খেলে উল্টো শরীর দুলিয়ে নাচছিলেন!

মুজারাবানির এসব পছন্দ না হওয়ারই কথা। দুজন কথার যুদ্ধে জড়ান দিনের দ্বিতীয় ওভারেই। ফাস্ট বোলারের রক্ত তো তাসকিনের শরীরেও। তিনিই-বা কেন পিছপা হবে। চোখে চোখ রেখে মুজারাবানিকে বলছিলেন, ‘কী সমস্যা তোমার, হ্যাঁ?’ কথা-কাটাকাটির পর অবশ্য মনোযোগ হারাননি তাসকিন। পরে মুজারাবানির বলেই কাভার দিয়ে উড়িয়ে চার মারেন আরও দুটি। তাসকিনের মারকাটারি ব্যাটিং চলতে থাকে জিম্বাবুয়ের অন্য বোলারদের ওপরও। এভাবে খেলে অবশ্য বেশিক্ষণ ক্রিজে থাকাও যায় না।

একটা না একটা সময় জিম্বাবুয়ের সুযোগ আসতই। সেটা এসেছেও। ৯২তম ওভারে রিচার্ড এনগারাভার বলে সপাটে ব্যাট চালিয়ে স্লিপে ক্যাচ দেন তাসকিন। কিন্তু মিল্টন শুম্বা তিনবারের চেষ্টায়ও বল ধরে রাখতে পারলেন না। ৩২ রানে জীবন পাওয়া তাসকিন এরপর ৬৯ বলে পেয়ে যান ক্যারিয়ারের প্রথম ফিফটি। এর আগে প্রথম শ্রেণি তো দূরে থাক, লিস্ট ‘এ’ কিংবা স্বীকৃত কোনো ক্রিকেটেই ৪০ ছুঁতে পারেননি তাসকিন। হারারে টেস্টের আগে তাসকিন সর্বোচ্চ ৩৮ রান করেছিলেন ২০১৬ সালে ঢাকা প্রিমিয়ার লিগে। মিরপুরে আবাহনীর হয়ে মোহামেডানের বিপক্ষে নেমে ৩৮ রানে অপরাজিত ছিলেন।

আজ ফিফটির পর তাসকিন যেন পুরোদস্তুর ব্যাটসম্যান। যেসব বল এতক্ষণ মেরে খেলেছেন, সেসব বল ছেড়ে খেলতে থাকেন তিনি। কাভার ড্রাইভগুলোতেও অসাধারণ টাইমিং হচ্ছিল। বাংলাদেশের রানের চাকাও তাতে দ্রুত ঘুরতে থাকে। ৮ উইকেটে ২৯৪ রান নিয়ে দিন শুরু করা বাংলাদেশ আজ মধ্যাহ্নবিরতিতে যায় ৮ উইকেটে ৪০৪ রান নিয়ে।

তাসকিন টিকে থাকায় টেস্ট ক্যারিয়ারের পঞ্চম সেঞ্চুরি পেয়ে যান মাহমুদউল্লাহ। জুটির রেকর্ডের দিকেও এগিয়ে যেতে থাকেন দুজন। ১৯৯৮ সালে নবম উইকেটে বিশ্ব রেকর্ড সর্বোচ্চ ১৯৫ রানের জুটি গড়েছিলেন দক্ষিণ আফ্রিকার মার্ক বাউচার ও প্যাট সিমকক্স। তাসকিন আউট হওয়ায় অল্পের জন্য রেকর্ড ভাঙা হয়নি মাহমুদউল্লাহ-তাসকিন জুটির। দিনের দ্বিতীয় সেশনে ৭৫ রান করে মিল্টন শুম্বার বাঁহাতি স্পিনে স্লগ সুইপের চেষ্টায় তাসকিন বোল্ড হলে ১৯১ রানে ভাঙে জুটি। তাসকিনের স্বপ্নিল ইনিংসের সমাপ্তির পর বাংলাদেশের ইনিংসের ইতি ঘটে। ইবাদত হোসেন ০ রানে আউট হওয়ায় বাংলাদেশের প্রথম ইনিংস থামে ৪৬৮ রানে।