মোটা হওয়ার জন্য নিম্ন ও মধ্যম আয়ের দেশগুলোতে প্রতিবছর হাজার হাজার মানুষ অকালে মৃত্যুবরণ

স্থূলতা বা মোটা হওয়ার জন্য নিম্ন ও মধ্যম আয়ের দেশগুলোতে প্রতিবছর হাজার হাজার মানুষ অকালে মৃত্যুবরণ করছে কিংবা অক্ষম হচ্ছে। অন্যদিকে, প্রাত্যহিক জীবনে ইন্টারনেটের ব্যবহার ও এর ওপর নির্ভরতা প্রতিনিয়ত বাড়ছে। এ ক্ষেত্রে শারীরিক নিষ্ক্রিয়তা বৃদ্ধি পাচ্ছে।

নেপালের ১৫ থেকে ৪৯ বছর বয়সী ১০ হাজার ৩৮৪ জন নারী-পুরুষের ১২ মাসে ইন্টারনেট ব্যবহার ও স্থূলতা এবং নারী-পুরুষের ওপর ইন্টারনেট ব্যবহারের প্রভাবের অসমতা নিয়ে একটি গবেষণা হয়েছে। এতে ৪ হাজার ৫৪ জন পুরুষ এবং ৬ হাজার ৩৩০ জন নারী অংশ নেন। ২০১৭ সালে এ গবেষণার জন্য তথ্য সংগ্রহ করা হয়। চলতি বছর এ প্রতিবেদন প্রকাশিত হয়।

এই গবেষণায় প্রধান গবেষক জুয়েল রানা। তিনি বর্তমানে বাংলাদেশে নর্থ সাউথ ইউনিভার্সিটিতে জনস্বাস্থ্য বিভাগে প্রভাষক হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন । গবেষণার ফলাফল পর্যালোচনা করে জুয়েল রানা প্রথম আলোকে বলেন, গবেষণায় ৩৩ দশমিক ৯ শতাংশ অংশগ্রহণকারী ইন্টারনেট ব্যবহার করেছে। এর মধ্যে ১৩ শতাংশ সপ্তাহে কমপক্ষে একবার বা তারও কম এবং ১৭ দশমিক ৫ শতাংশ প্রায় প্রতিদিনই ইন্টারনেট ব্যবহার করেছে। নারীদের (২৪ শতাংশ) তুলনায় পুরুষদের (৪৯ দশমিক ৫ শতাংশ) মধ্যে ইন্টারনেট ব্যবহারের প্রবণতা প্রায় দ্বিগুণ ছিল।

গবেষণায় বলছে, ইন্টারনেট যাঁরা ব্যবহার করেন না, তাঁদের চেয়ে ইন্টারনেট ব্যবহারকারীদের মধ্যে স্থূলতা বা মোটা হওয়ার ঝুঁকি ১ দশমিক ৫৫ গুণ বেশি। এর মধ্যে সপ্তাহে কমপক্ষে একবার বা তারও কম ইন্টারনেট ব্যবহারকারীদের মধ্যে এই ঝুঁকি ১ দশমিক ৫১ গুণ বেশি এবং প্রতিদিন ইন্টারনেট ব্যবহারকারীদের মধ্যে স্থূলতা বা মোটা হওয়ার ঝুঁকি ১ দশমিক ৫৬ গুণ বেশি।

দেখা গেছে, ইন্টারনেট ব্যবহারকারী পুরুষদের মধ্যে এই ঝুঁকি ১ দশমিক ৭৯ গুণ বেশি ও নারীদের মধ্যে মাত্র ১ দশমিক ৩৬ গুণ বেশি। অর্থাৎ ইন্টারনেট ব্যবহারকারী নারীদের তুলনায় পুরুষদের মধ্যে স্থূলতা ঝুঁকি অনেক বেশি। সপ্তাহে কমপক্ষে একবার বা তারও কম ইন্টারনেট ব্যবহারকারী পুরুষদের মধ্যে এই ঝুঁকি ১ দশমিক ৬১ গুণ বেশি এবং প্রতিদিন ইন্টারনেট ব্যবহারকারী পুরুষদের মধ্যে মোটা হওয়ার ঝুঁকি প্রায় দ্বিগুণ। এই ঝুঁকি নারী ইন্টারনেট ব্যবহারকারীদের মধ্যে যথাক্রমে ১ দশমিক ৪৭ ও ১ দশমিক ২৮ গুণ বেশি, যা পুরুষদের তুলনায় অনেক কম।

গবেষক জুয়েল রানা বলেন, পুরুষদের তুলনায় নারীদের মধ্যে ইন্টারনেট ব্যবহারের সুযোগ ও প্রবণতা অনেক কম। নারীরা প্রতিদিন ইন্টারনেট ব্যবহার করলেও হয়তো অপ্রয়োজনে ব্যবহার করেন না। কর্মজীবী নারীরা অফিস ও সংসারের কাজ করার পর বাড়তি সময় পেলে ইন্টারনেট ব্যবহার করেন। শারীরিক পরিশ্রম ও প্রতিদিন ইন্টারনেট ব্যবহারের স্থিতিকাল কম হওয়ায় নারীদের মোটা হওয়ার ঝুঁকি কম হওয়ার অন্যতম কারণ। এ ছাড়া দক্ষিণ এশিয়ার দেশগুলোতে নারী ইন্টারনেট ব্যবহারকারীদের মধ্যে অনলাইন গেম খেলার প্রবণতাও অনেক কম, যা নারীদের অতিরিক্ত ইন্টারনেট ব্যবহার এবং ওজন বাড়ার ঝুঁকি কম হওয়ার অন্যতম কারণ হতে পারে।