সাংবাদিক রোজিনা ইসলামকে আটকে রেখে হেনস্তা, নির্যাতন, মামলা ও গ্রেপ্তারের পর কারাগারে পাঠানোর মধ্য দিয়ে কার্যত সাংবাদিকতাকেই অস্তিত্বের সংকটে ফেলে দেওয়া হয়েছে। এর মাধ্যমে অনুসন্ধানী সাংবাদিকতার মেরুদণ্ড ভেঙে দেওয়ার চেষ্টা হচ্ছে—দলমত–নির্বিশেষে সাংবাদিকসহ বিভিন্ন পেশাজীবী সংগঠনের প্রতিবাদী সমাবেশ, মানববন্ধনে ঘুরেফিরে এই বিষয়টিই বারবার এসেছে।
সাংবাদিক নেতারা বলছেন, রোজিনা ইসলামকে নির্যাতন ও মামলা দিয়ে হয়রানির ঘটনায় আমলারা নিজেদের সবচেয়ে ক্ষমতাধর হিসেবে জাহির করছেন। আর কিছু রাজনীতিবিদ দুর্নীতিবাজ কর্মকর্তাদের পক্ষে সাফাই গাইছেন। এটি সরকারের জন্যও ভালো নয়।
প্রথম আলোর জ্যেষ্ঠ প্রতিবেদক রোজিনা ইসলামকে গ্রেপ্তারের প্রতিবাদে এবং তাঁকে নিঃশর্ত মুক্তির দাবিতে গতকাল বৃহস্পতিবার ঢাকায় বিভিন্ন কর্মসূচি পালন করা হয়। এসব কর্মসূচি থেকে আহ্বান আসে, সাংবাদিকতার স্বার্থে ঐক্যবদ্ধভাবে আন্দোলন চালিয়ে যেতে হবে।
সাংবাদিকদের পাশাপাশি দেশি–বিদেশি বিভিন্ন পেশাজীবী সংগঠন গতকালও বিবৃতি দিয়ে রোজিনা ইসলামের সঙ্গে যে আচরণ করা হয়েছে, তার তীব্র প্রতিবাদ জানিয়েছে। আন্তর্জাতিক মানবাধিকার সংগঠন হিউম্যান রাইটস ওয়াচ (এইচআরডব্লিউ) গতকাল বলেছে, পেশাগত দায়িত্ব পালনের জন্য সাংবাদিকদের গ্রেপ্তার বন্ধ করাও উচিত কর্তৃপক্ষের। সমালোচকদের আটক না করে মহামারি মোকাবিলায় স্বাস্থ্যসেবাকে শক্তিশালী করতে সরকারের মূল কৌশল হওয়া উচিত মুক্ত গণমাধ্যমকে উৎসাহিত করা।
আর সাংবাদিকদের অধিকার নিয়ে কাজ করা সংগঠন রিপোর্টার্স উইদাউট বর্ডারসও (আরএসএফ) এক বিবৃতিতে রোজিনা ইসলামকে অবিলম্বে মুক্তি দিয়ে বাংলাদেশের সরকারকে বিশ্বাসযোগ্যতা পুনরুদ্ধারের আহ্বান জানিয়েছে।






