বার্সেলোনার বেশ চাপে পড়তে হবে মৌসুমের আয়-ব্যয়ের অঙ্ক মেলাতে

করোনাভাইরাসকে পাশ কাটিয়ে জুনে স্প্যানিশ লিগ আবার ফিরতে পারে বলে গুঞ্জন। ফিরলেও ঠিকভাবে সব ম্যাচ শেষ হবে, মৌসুম শেষ করা যাবে? গেলে তা-ও ক্লাবগুলো টিভিস্বত্তের বড় একটা অঙ্ক পাবে। তা না পেলে যে বেশ চাপে পড়তে হবে মৌসুমের আয়-ব্যয়ের অঙ্ক মেলাতে!

বিশেষ করে বার্সেলোনার বোর্ডের হয়তো গলদঘর্ম হতে হবে ব্যালেন্স শিট মেলাতে। এমনিতেই যে করোনার কারণে ক্লাবটার হিসেবে ২২ কোটি ইউরো টান পড়তে পারে বলে জানাচ্ছে স্প্যানিশ দৈনিক মার্কা। বাংলাদেশি মুদ্রায় অঙ্কটা দাঁড়ায় ২০২২ কোটি টাকা! সেটি মৌসুম পুরো শেষ হবে ধরে টিভি স্বত্বের অঙ্ক হিসেব করার পর! এই ২২ কোটি ইউরোর হিসেব কীভাবে মেলাবে, তা-ই হয়তো এখন ভাবতে হচ্ছে বার্সাকে।
করোনাভাইরাসের কারণে মার্চ থেকেই সব খেলা বন্ধ। ক্লাবগুলোর আয়ের পথও তাই বন্ধ। এ অবস্থা বেশি দিন চলতে থাকলে ছোট অনেক ক্লাব যে দেউলিয়া হয়ে যাবে, সে শঙ্কা অনেকেই জানিয়েছেন। তবে বার্সার মতো ক্লাব, যেটি কিনা গত কয়েক বছরে বোর্ড পর্যায়ে বেশ বিশৃঙ্খলভাবে চলেছে বলে মত প্রায় সবার, সেই ক্লাবেরও অবস্থা খুব একটা ভালো নয়।
মার্কা জানাচ্ছে, করোনার কারণে ক্লাবের কত ক্ষতি হতে পারে, সে হিসেব কষতে নিজেরা একটা গবেষণা করেছে বার্সা। তাতে অঙ্কটা উঠে আসছে ১৫ কোটি ইউরো। তবে স্প্যানিশ পত্রিকা লা ভানগার্দিয়ার হিসেব, ক্যাম্প ন্যু-র টিকিট বিক্রির টাকা বন্ধ হয়ে যাওয়া, ক্লাবের অফিশিয়াল স্টোর ও জাদুঘর বন্ধ থাকা, খেলা থেকে অন্যান্য আয়, বিশ্বজুড়ে ক্লাবের অনেকগুলো একাডেমি বন্ধ থাকা…সব মিলিয়ে ক্ষতিটা ১৫ কোটি ৪০ লাখ ইউরো।
ক্ষতির অঙ্কটা কমাতে বোর্ড খেটে মরছে। এর সঙ্গে যোগ হতে পারে প্রত্যাশিতভাবে খেলোয়াড় বিক্রি করতে না পারা। খেলোয়াড় বিক্রি করে ১২ কোটি ৪০ লাখ ইউরো আয় হবে বলে ধরে রেখেছিল বার্সা, কিন্তু এখনো ৭ কোটি ইউরোর ঘাটতি আছে সেখানে। এই ৭ কোটি যোগ হচ্ছে করোনার কারণে আয় বন্ধ হওয়ার ১৫ কোটি ইউরোর সঙ্গে, যেটির প্রভাব পড়বে ক্লাবের ব্যালেন্স শিটে।
বার্সেলোনা ক্ষতি পোষাতে এরই মধ্যে ক্লাবের খেলোয়াড় ও কর্মীদের বেতন কমিয়েছে। মেসিরা নিজেরাও বেতন ৭০ শতাংশ কম নেওয়ার পাশাপাশি নিজেরা অর্থ দিয়ে ক্লাবের কর্মীদের বেতনের কিছু অংশের জোগান দেওয়ার কথা জানিয়েছিলেন। খেলোয়াড়-কর্মীদের বেতন কমিয়ে ৪-৫ কোটি ইউরো বেচেছে বার্সার, এমনই জানাচ্ছে মার্কা।
বার্সা এখন আশায়, নেলসন সেমেদো, আর্তুরো ভিদাল, জাঁ-ক্ল্যের তোদিবোর মতো খেলোয়াড়দের পাকাপাকিভাবে বিক্রি করে কিছু অর্থ তুলে আনতে, যাতে ক্ষতির অঙ্কটা কমানো যায়। পাশাপাশি লিগ পুরোপুরি শেষ হলে টিভিস্বত্ত্ব থেকে আসবে দুই থেকে আড়াই কোটি ইউরো। আর চ্যাম্পিয়নস লিগ-লিগ জিতলে আরও কিছু অর্থ যোগ হবে ক্লাবের ব্যালেন্স শিটে। সেটিরও আশায় হয়তো দিন গুনছে ক্লাবের বোর্ড।