ডিজিটাল যুগের একটি সুবিধা হলো, কোনো কিছুই হারিয়ে যায় না। সহজেই হাতের কাছে, চোখের সামনে পাওয়া যায়। এ সুবিধা নিয়ে ইউটিউবে পুলিশের সাবেক মহাপরিদর্শক (আইজিপি) বেনজীর আহমেদের কিছু উদ্দীপনামূলক বক্তব্য শুনছিলাম। ২০১৯ সালের ৩১ ডিসেম্বর র্যাবের মহাপরিচালক থাকাকালে এক অনুষ্ঠানে তিনি বলেছিলেন, জঙ্গি, মাদক ও দুর্নীতির সঙ্গে কোনো আপস নেই।বছর দু-এক পর দেওয়া বেনজীরের আরেকটি বক্তব্য আরও অনুপ্রেরণাদায়ী। সেখানে তিনি পুলিশের নবীন সদস্যদের সংবর্ধনা অনুষ্ঠানে (১৪ জুন, ২০২১) দুর্নীতির বিরুদ্ধে ‘জিহাদ’ ঘোষণার ডাক দিয়েছিলেন। তিনি বলেছিলেন, ‘আমি চাই, তোমরা পুলিশের এই ১ হাজার ৩০০ নবীন সদস্য দুর্নীতির বিরুদ্ধে জিহাদ ঘোষণা করবে।’বেনজীর আহমেদ এসব অনুপ্রেরণা যখন জোগাচ্ছিলেন, তখন নিজেই জানতেন যে তিনি সরকারের অনুমতি না নিয়ে বিভিন্ন জায়গায় জমি কিনছেন, রিসোর্ট করছেন, সেই রিসোর্টে পুলিশ ও র্যাব সদস্যদের দিয়ে কাজ করাচ্ছেন। নিজের পাসপোর্টটিও তিনি করিয়েছেন মিথ্যা তথ্য দিয়ে। তিনি পুলিশ বাহিনীর বড় পদে থেকেও পাসপোর্ট নিয়েছেন বেসরকারি চাকরিজীবী হিসেবে, যেটা সরকারি চাকরিবিধি ও পাসপোর্ট আইনে অপরাধ।
বেনজীর আহমেদ ঢাকা মহানগর পুলিশের (ডিএমপি) কমিশনার হিসেবে নিয়োগ পান ২০১০ সালের ১৪ অক্টোবর। দৈনিক যুগান্তর–এ ৩ জুন প্রকাশিত ‘মিথ্যা পরিচয়ে বিশ্বভ্রমণ’ শিরোনামে প্রকাশিত একটি প্রতিবেদন বলছে, ওই দিনই বেসরকারি চাকরিজীবী পরিচয়ে বেনজীরের করা পাসপোর্ট (নবায়নকৃত এমআরপি বা মেশিন রিডেবল পাসপোর্ট) তাঁকে দেয় ইমিগ্রেশন ও পাসপোর্ট অধিদপ্তর। উল্লেখ্য, এর মাত্র তিন দিন আগে পাসপোর্ট নবায়নের আবেদন করেছিলেন বেনজীর।
যুগান্তরের প্রতিবেদন বলছে, ওই দফায় নবায়ন করা বেনজীরের পাসপোর্টের মেয়াদোত্তীর্ণের তারিখ ছিল ২০১৫ সালের ১৩ অক্টোবর। মেয়াদপূর্তির আগে তিনি ২০১৪ সালে বেসরকারি চাকরিজীবী পরিচয়েই পাসপোর্ট নবায়ন করেন।






