জীবনের তাগিদে ভরা বর্ষায়ও বাইরে বেরোতে হয়। পানি–কাদা প্যাচপেচে রাস্তায় সবচেয়ে বেহাল হয় পা। বর্ষার পানিতে পায়ের নানা রকম ত্বকের সমস্যা তো আছেই। তাই বর্ষাকালে পায়ের যত্নের ব্যাপারে বিশেষ যত্নশীল হওয়া প্রয়োজন। না হলে কিন্তু পায়ে ছত্রাক ও ব্যাকটেরিয়াজনিত সংক্রমণ হতে পারে। পায়ের সংক্রমণ দীর্ঘদিন ফেলে রাখা একেবারেই ঠিক নয়। যাঁদের রক্তে উচ্চমাত্রায় শর্করা রয়েছে, তাঁদের এ ব্যাপারে বেশি সাবধান হওয়া প্রয়োজন।
বর্ষায় পায়ের যত্নে
লি-রেন মেকওভার স্যালনের স্বত্বাধিকারী ও রূপবিশেষজ্ঞ ঊর্মিলা হোসেন জানান, বর্ষাকালে পায়ে কোনো সংক্রমণ হওয়ার আগেই যত্ন নিতে হবে। বর্ষাকালে জুতা ভেজা থাকলে একাধিক সমস্যা হয়। তাই এমন জুতা পরুন, যাতে পানি জমবে না। প্রয়োজনে একাধিক জুতা ব্যবহার করুন। অফিসে এক জোড়া স্যান্ডেল রেখে দিতে পারেন। তাহলে কোনো কারণে ভিজলেও সারা দিন ভেজা জুতা পরে থাকতে হবে না। জুতি, পাম্প শু, স্নিকার্স এ সময় এড়িয়ে চলাই ভালো। সপ্তাহে অন্তত একবার অবশ্যই জুতা ধুয়ে পরিষ্কার করে নেবেন। বাড়িতে থাকলে কখনো খালি পায়ে হাঁটবেন না। কারণ, এ সময়ে পায়ের অনুভূতি কমে যায় বলে কোনোভাবে কেটে গেলে কিংবা ফোসকা পড়লে টের পাবেন না। সেখানে ময়লা ঢুকে সংক্রমণ হয়ে যেতে পারে। বাইরে থেকে বাড়িতে ঢুকে প্রথমেই অ্যান্টিসেপটিক দেওয়া পানিতে বা সাবান দিয়ে পা ধুয়ে নিন। তাহলে পায়ে কোনো ছত্রাক সংক্রমণের আশঙ্কা থাকবে না।
ত্বকে থাকুক আর্দ্রতা
বর্ষায় এমনিতে বাতাসে আর্দ্রতা বেশি থাকে। তারপরও হাত-পা খুব তাড়াতাড়ি শুষ্ক হয়ে যায়। যাঁদের বহুমূত্র রোগ আছে, বেশি শুষ্কতা তাঁদের জন্য ভালো নয়। তাই ময়েশ্চারাইজার ব্যবহার করুন। পায়ের আঙুলের মাঝে ও গোড়ালিতে দিনে দুবার ময়েশ্চারাইজার মাখুন।
পেডিকিউর মাসে ২ বার
বর্ষায় সপ্তাহে ১৫ দিন অন্তর বাড়িতে অথবা পারলারে পেডিকিউর করা জরুরি। তবে পারলারে বিভিন্ন যন্ত্রপাতি ব্যবহার করে পেডিকিউর করা হয়। বহুমূত্র রোগ আছে, এমন ব্যক্তিরা এ কারণে পারলার এড়িয়ে চলুন। তার চেয়ে বাড়িতেই কোমল শ্যাম্পু, গরম পানি ও নরম ব্রাশ দিয়ে পেডিকিউর করে নিতে পারেন। এ ক্ষেত্রে নিমপাতা দিয়ে পানি ফুটিয়ে নিন। তারপর এতে পাতিলেবুর রস, অল্প লবণ ও শ্যাম্পু মিশিয়ে পা ডুবিয়ে রাখুন ১৫ মিনিট। নিমপাতা প্রাকৃতিক অ্যান্টিসেপটিকের কাজ করে। এরপর ঝামা পাথরের সাহায্যে গোড়ালি ও পায়ের তলা ভালোভাবে পরিষ্কার করুন। পা শুকনা করে মুছে নিন। ভালো কোনো ক্রিম পুরো পায়ে লাগিয়ে নিন।
পায়ে প্যাক লাগিয়ে এভাবে মুড়িয়েও রাখতে পারেন প্লাস্টিক দিয়েছবি: নকশা
পায়ে ছত্রাকের আক্রমণ যদি হয়েই যায়, তবে নিয়মিত গরম পানিতে লবণ দিয়ে পা পরিষ্কার করুন। এতে অনেকটা আরাম পাওয়া যাবে। এরপর নিমের সাবান বা নিমের প্যাক লাগিয়ে রাখুন কিছুক্ষণ। পরিষ্কার করে নিন। এ ছাড়া চালের গুঁড়ার সঙ্গে টক দই মিশিয়ে প্যাক তৈরি করে নিন। প্যাকটি কিছুক্ষণ রেখে ভালো করে ঘষে ধুয়ে ফেলুন। খুব বেশি সমস্যা হলে অবশ্যই চিকিৎসকের পরামর্শ নিন।






