নগরে উন্মুক্ত খাল-নালা

চট্টগ্রাম নগরের আছদগঞ্জ এলাকার পাশ দিয়ে বয়ে গেছে কলাবাগিচা খাল। এটি শুঁটকিপট্টি এলাকায় গিয়ে চাক্তাই খালের সঙ্গে মিলেছে। এই খাল পার হওয়ার জন্য জরাজীর্ণ একটি সেতু রয়েছে। তবে পুরো খালের পাশে নেই কোনো নিরাপত্তাবেষ্টনী। গত ২৭ মে ঘূর্ণিঝড় রিমালের পর জলাবদ্ধতার কারণে এখানে পড়ে মৃত্যু হয় আজিজুল হাকিম নামের এক যুবকের।

সম্প্রতি ওই এলাকায় গিয়ে দেখা যায়, এলাকাবাসী দড়ি দিয়ে অস্থায়ী বেষ্টনী তৈরি করে রেখেছেন। তাতেও দুর্ঘটনা ঘটার আশঙ্কা রয়েছে। স্থানীয় লোকজন বলছেন, বৃষ্টির সময় এই খাল ঝুঁকিপূর্ণ হয়ে ওঠে। পা পিছলে পড়লে পানির স্রোতে ভেসে যাবে যে কেউ। এলাকার ছোট শিশুরা খালের পাড়ে খেলা করে। বেষ্টনী না থাকায় যেকোনো সময় দুর্ঘটনা ঘটতে পারে।

স্থানীয় ওয়ার্ড কাউন্সিলর পুলক খাস্তগীর জানান, এই খালের পাশে বেষ্টনী নির্মাণের জন্য পাঁচ কোটি টাকার একটি প্রকল্প প্রস্তাব মেয়রের কাছে দেওয়া হয়েছে। সাধারণ সভায় বিষয়টি নিয়ে কথা হয়েছে।

খালে পড়ে মৃত্যুর ঘটনা এটি প্রথম নয়। গত এক মাসে আজিজুল হাকিমসহ তিনজনের মৃত্যু হয়েছে নগরের তিনটি খালে। এর মধ্যে ১১ জুন বিকেলে চাক্তাই খালের স্লুইসগেট–সংলগ্ন এলাকায় নিখোঁজ হয় অজ্ঞাতনামা এক শিশু। প্রায় ১৪ ঘণ্টা পর তার লাশ পাওয়া যায় পাশের রাজাখালী খালে। সেখানে গিয়ে দেখা গেছে, অস্থায়ী বাঁশের বেষ্টনী স্থাপন করেছে চট্টগ্রাম সিটি করপোরেশন।

এর আগে ৯ জুন আগ্রাবাদ এলাকার নাসির খালে পড়ে মারা যায় সাইদুল ইসলাম নামের সাত বছর বয়সী এক শিশু। ওই এলাকায় এখন প্রবেশ নিষিদ্ধ করেছে জলাবদ্ধতা নিরসন প্রকল্পের বাস্তবায়নকারী সংস্থা ৩৪ ইঞ্জিনিয়ার কনস্ট্রাকশন ব্রিগেড।

নগরে উন্মুক্ত খাল-নালাগুলোর পাশে বেষ্টনী দেওয়ার কথা বারবার বলে আসছেন নগর পরিকল্পনাবিদ ও বিশেষজ্ঞরা। তবে এতেও টনক নড়েনি চট্টগ্রাম সিটি করপোরেশন ও চট্টগ্রাম উন্নয়ন কর্তৃপক্ষের (সিডিএ)। সিটি করপোরেশনের সাধারণ সভায় প্রতিবারই খাল-নালায় বেষ্টনীর বিষয়ে আলোচনা হয়। তবে তা কেবল আলোচনাতেই সীমাবদ্ধ। মৃত্যুর ঘটনার পর শুধু অস্থায়ী বেষ্টনী দেওয়া হয়।